Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিভূতিভূষণের চিঠি ও পাণ্ডুলিপি নিয়ে ডিজিটাল আর্কাইভ, উদ্যোগ পরিবারের

দিল্লির কুতুব মিনার দেখতে গিয়েছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে ভাই নুটবিহারীকে চিঠি লিখেছিলেন। সালটা ১৯৪৫।

বিভূতিভূষণের চিঠি ও পাণ্ডুলিপি নিয়ে ডিজিটাল আর্কাইভ, উদ্যোগ পরিবারের
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লির কুতুব মিনার দেখতে গিয়েছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে ভাই নুটবিহারীকে চিঠি লিখেছিলেন। সালটা ১৯৪৫। বিভূতিভূষণ লিখছেন, ‘এই মাত্র তোমার বৌদিদি ও আমি কুতব মিনার দেখে ফিরলুম। এখনও হাঁপাচ্ছি...।’ সেই পোস্টকার্ডেরই উল্টো পিঠে বিভূতিভূষণের স্ত্রী কল্যাণী ভ্রাতৃবধুকে লিখছেন অন্য একটি চিঠি। এরকমই অজস্র চিঠি, পাণ্ডুলিপি, বিভিন্ন ধরনের লেখা সমৃদ্ধ ডায়েরির পাতা ডিজিটাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিভূতিভূষণের পরিবার। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ সংক্রান্ত কথাবার্তা ইতিমধ্যেই এগিয়েছে বলেও জানান সাহিত্যিকের নাতি তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়।এমনই কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য চিঠি, লেখার খসড়া নিয়ে প্রদর্শনীও করা হয়েছে শহরের বুকে। এর পাশাপাশি বিভূতিভূষণের সাহিত্যকর্ম নিয়ে বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করেছেন তৃণাঙ্কুর। তার মধ্যে রয়েছে লাগেজ ট্যাগ, বুকমার্ক, টিশার্ট ইত্যাদি। তৃণাঙ্কুর বলেন, ‘এগুলির যে এত চাহিদা হবে তা আমি ভাবতে পারিনি। তবে এখন তো তরুণ প্রজন্মের বড়ো অংশ সাহিত্যবিমুখ হয়ে পড়েছেন। আমার এই লাগেজ ট্যাগ, টিশার্ট দেখে কেউ যদি একবার ‘চাঁদের পাহাড়’ পড়ে দেখেন, সেই উদ্দেশেই আমার এই কাজ শুরু করা।’ উদ্দেশ্য আরও একটি আছে। তা হল, বনগ্রামে বিভূতিভূষণের বাড়িটির অবস্থা এখন খুবই খারাপ। ‘ওই বাড়িটি হেরিটেজ কমিশনের তালিকাভুক্ত। কিন্তু আমি ওই বাড়ি সংক্রান্ত কোনও উদ্যোগ নিতে এখনও দেখিনি। তাই ঠিক করেছি, যদি সেখানে সংগ্রহশালা তৈরি করা যায়। এই জিনিসগুলো বিক্রি করে যে টাকা আসবে, সেগুলো ওই কাজে বিনিয়োগ করা যাবে,’ বলেন তৃণাঙ্কুর।

Advertisement

এর পাশাপাশি সাহিত্যিকের পরিবার মনে করে, বিভূতিভূষণের সাহিত্যকর্ম বা সাহিত্যিক মানুষটি শুধুই পরিবারের নয়। তিনি সবার। ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বিভিন্ন জিনিসপত্র রয়েছে, যেমন বিভূতিভূষণ যখন পড়াতেন, ছাত্রদের জন্য রুটিন তৈরি করতেন। একটা কাগজ রয়েছে, যেখানে তিনি কোন বই পড়ছেন, সেগুলো লেখা রয়েছে। যা মানুষ ভাবতেই পারেন না। এই সবকিছু নিয়ে আমরা ডিজিটাল আর্কাইভ করার চেষ্টা করছি,’ বললেন তৃণাঙ্কুর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ