সংবাদদাতা, কাঁথি: অবশেষে দীঘার জগন্নাথ মন্দির মিলিয়ে দিল যুদ্ধরত দুই দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভক্তদের। শনিবার জগন্নাথ মন্দির পরিদর্শন করে আবেগে ভাসলেন তাঁরা। এদিন শুধু রাশিয়া, ইউক্রেন নয়, বেলারুশ, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ২০জনের একটি প্রতিনিধি দল জগন্নাথ মন্দির দর্শন করেন। তাঁরা গোটা মন্দির চত্বর ঘুরে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ দর্শন করেন।
৩০ এপ্রিল জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হওয়ার পর যত দিন যাচ্ছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। শনিবারও ছিল সেই একই ছবি। মন্দিরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। এখন স্কুলে গরমের ছুটি চলছে। তাই ঠাসা ভিড় দীঘায়। মন্দির ও প্রভু জগন্নাথ দর্শন করে তাঁরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এর আগেও দীঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শনে বিদেশি ভক্তরা এসেছেন। তবে এদিন একসঙ্গে অনেকে মন্দির দর্শনে এলেন। ইউক্রেন থেকে আগত ভাদিম ক্রিস্তভ বলেন, আজ আমাদের জীবনের অন্যতম মুহূর্ত। আমি কখনও ভাবিনি, এমন একটি মন্দিরে এসে জগন্নাথদেবের দর্শন পাব। এটি প্রভু জগন্নাথদেবের করুণা ও তাঁর সর্বজনীন আহ্বানের একটি প্রতীক। এই অপূর্ব সুযোগ দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। লিথুয়ানিয়ার বাসিন্দা মিস ভায়োলেটা জিগো বলেন, জগন্নাথদেবের দর্শন পাওয়ার মুহূর্তেই আমি গভীর আত্মিক সংযোগ অনুভব করেছি। আন্তর্জাতিক ভক্তদের অনেকেই বহুদিন ধরে জগন্নাথদেবের দর্শনের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের জন্য এই মন্দির আশীর্বাদ স্বরূপ। এই অসাধারণ উপহারের জন্য আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।
জগন্নাথ মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসকনের(কলকাতা) সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস এই দলের সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, দীঘার জগন্নাথদেবের মন্দির বিশ্বব্যাপী ভক্তদের জন্য একটি পবিত্র গন্তব্যস্থান হয়ে উঠেছে। আমরা বিশ্বজুড়ে ভক্তদের কাছ থেকে ফোন পাচ্ছি। তাঁরা দীঘায় এসে এই অপূর্ব মন্দিরের দর্শন করতে চান। এই মন্দির দীঘার অর্থনীতির উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রচুর তীর্থযাত্রী ও পর্যটক এখানে আসছেন। এটি দীঘাকে এক আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করেছে।