Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’মিনিটের হেরফেরে বড় ছোট, যমজ দু’ বোনের নম্বরের ফারাকও দুই

দু’মিনিটের হেরফেরে বড় ছোট, যমজ দু’ বোনের নম্বরের ফারাকও দুই
  • ১২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল,  রানাঘাট: যমজ দুই বোনের পছন্দ এক, স্বপ্ন এক, সমস্যাও এক। সময়ের হিসেবে একে অপরের থেকে দুই মিনিটের ছোট বড়। উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বরেও তাই। বোনের চেয়ে ঠিক দুই নম্বর বেশি দুই মিনিটের বড় দিদির! নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসারে সব প্রতিকূলতাকে জয় করে ৯৪% নম্বর পেয়ে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে শান্তিপুরের বিবেকানন্দনগর বিবেকানন্দ হাইস্কুলের এই দুই যমজ বোন। 

Advertisement

শান্তিপুরের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা বরুণ প্রামাণিক পেশায় টোটো চালক। সীমিত আয় তাঁর। যমজ দুই মেয়ে রিক্তা আর মুক্তা। অভাবের সংসারে কিছুটা বাড়তি আয়ের খোঁজে মহাজনের কাছ থেকে সুতো এনে তাঁত বোনেন বরুণবাবুর স্ত্রী। দাঁতে দাঁত চেপে দুই মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে কোনও কসুর করেন না বরুণবাবু ও মামনিদেবী। কারণ, অল্প বয়সেই বুঝতে পেরেছিলেন, অভাবের সংসারে দুই যমজ কন্যা অত্যন্ত মেধাবী। তাই শত কষ্টের মাঝেও দুই মেয়েকে নিয়ে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখেন তাঁরা। সত্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিকের ফল তুলে ধরেছে রিক্তা-মুক্তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকেই। বড় বোন রিক্তার চেয়ে মাত্র ২ মিনিটের ছোটো মুক্তা। অদ্ভুতভাবে উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বরেও দুজনের ব্যবধান মাত্র দুই! যেখানে রিক্তার সংগ্রহ ৪৭৩ অর্থাৎ ৯৪.৬ শতাংশ, সেখানে বোন মুক্তা পেয়েছে পেয়েছে, ৪৭১ অর্থাৎ ৯৪.২ শতাংশ নম্বর। দুই বোনের স্বপ্নও এক।  দু’জনেই শিক্ষিকা হতে চান। দু’জনেই পড়াশোনা করতে চান দর্শন নিয়ে। রিক্তা বলছিলেন, ছোটবেলা থেকেই দু’জনের ইচ্ছে একসূত্রে বাঁধা। সেটা খাওয়া দাওয়া হোক অথবা জামা কাপড়ের পছন্দ। একজন যা ভাবে অন্যজনের মনের সঙ্গে তা যেন কাকতালীয়ভাবে মিলে যায়। তাই কেরিয়ারের স্বপ্ন দুজনের পৃথক হয় কী করে?’  উচ্চমাধ্যমিকে কলা বিভাগের ছাত্রী ছিলেন দু’জনে। দু›জনের বিষয়ও ছিল একই। বাংলা এবং ইংরেজিতে রিক্তার সংগ্রহ ৯৮ এবং ৮২ আর মুক্তা পেয়েছে ৯৮ এবং ৮১। দর্শন, শিক্ষা এবং ভূগোল বিষয়ে প্রথমজন পেয়েছেন যথাক্রমে ৯৬, ৯৩ এবং ৯২ নম্বর। আর বোন পেয়েছেন ৯৫, ৯২ এবং ৯০ নম্বর। চতুর্থ বিষয় হিসেবে পরিবেশ বিজ্ঞানে রিক্তার সংগ্রহ ৯৪ আর মুক্তার ৯৬। দুই মেয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা-মা। মেয়েদের লেখাপড়া যতদূর করার ইচ্ছা তত দূর সঙ্গ দিতে চান তাঁরা। মা মামনি প্রামানিক বলেন, ‘ছোট থেকেই ওরা খুব মেধাবী। অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শেখাই। সংসারে অভাব থাকতে পারে। কিন্তু ওদের অভাব রাখি না। ভবিষ্যতে ওরা নিজের পায়ে দাঁড়াক, এটাই আমরা চাই। এতটা সাফল্য হয়তো আশা করিনি। কিন্তু মেয়েদের প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। ওরা পারবেই।’  পরিবারের সঙ্গে রিক্তা ও মুক্তা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ