নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: চাপড়ায় তৃণমূলের ইফতার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক। ইফতারের মেনুতে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। ওই অনুষ্ঠানে তৃণমূলের নেতামন্ত্রীদের চেয়ারে বসেই ইফতার করতে দেখা যায়। অন্যদিকে কর্মী ও সাধারণ মানুষদের জন্য মাটিতে ব্যবস্থা করা হয়। যা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, কর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে বসে নেতারা কি ইফতার করতে পারতেন না? শুধু তাই নয়, মেনুতেও ছিল ফারাক। নেতাদের জন্য মাংস, কচুরি, নানারকম ফল, জুস, মিষ্টি এলাহি ব্যবস্থা। অন্যদিকে, তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্লেটে লুচি, তারকারি ও ফল দিয়েই দায় সারা হয়। এই বৈষম্যমূলক আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। অনুষ্ঠানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। যদিও ‘বর্তমান’ সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। তবে এনিয়ে নেটিজেনরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। তৃণমূল অবশ্য বৈষম্যের কথা অস্বীকার করছে।
চাপড়া বিধানসভার তৃণমূলের বিধায়ক রুকবানুর রহমান বলেন, ‘এসব ফালতু কথা। আমাদের সঙ্গে কিছু প্রবীণ মানুষ ছিলেন, যাঁরা মাটিতে বসতে পারবেন না। তাঁদের জন্যই চেয়ারের ব্যবস্থা ছিল। আমরা সকলে মিলেই ইফতার করেছি। যারা এসব প্রচার করছে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারে না।’ চাপড়া ব্লকের তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি আব্দুল লতিফ শেখ বলেন, ‘আমাদের বয়স্ক অতিথিদের জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইফতারে সবার জন্য একই মেনু ছিল। মাংস ছিল না।’
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি লিলুফার হোসেন শেখ বলেন, ‘যারা রোজাদার, তাঁরা নীচেই বসেছিলেন। এটাই নিয়ম। তবে নেতৃস্থানীয়দের টেবিল চেয়ার দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা কেউ নামাজ পড়েননি। তাঁরা শুধু ইফতারে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আগামী ২৭ মার্চ দলীয় ব্যানারে জেলার তরফ থেকে ইফতারের আয়োজন করা হবে। সেখানে ইফতার পার্টি মেঝেতে বসেই করা হবে।’
গত শনিবার বিকেলে চাপড়া থানার অন্তর্গত ইসলামগঞ্জ হাই মাদ্রাসার মাঠে তৃণমূলের তরফে ইফতারের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানেই চাঁদের হাট বসে। রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীর, পলাশীপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য সহ তৃণমূল শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখেন। চাপড়া ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতের বহু মানুষ সেই ইফতারে অংশগ্রহণ করেন। তৃণমূলের কর্মী সমর্থক থেকে সাধারণ মানুষ— সকলেই ছিলেন সেখানে। সচরাচর ইফতারের সময় দেখা যায়, নেতারাও মাটিতে বসে কর্মীদের সঙ্গে খাবার খান। তবে চাপড়ার এই অনুষ্ঠানে নেতাদের জন্য আলাদা চেয়ার টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু কর্মীরা নিয়ম মেনে মাটিতে বসেই ইফতারের করেন। যদিও সেই অনুষ্ঠানে প্রবীণ নেতারা ছাড়াও অনেকে জনপ্রতিনিধি ছিলেন যাঁরা মাটিতে বসে ইফতার করতে পারতেন। এমনটাই মনে করছেন তৃণমূলের একাংশ। তবে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ইফতারের মেনু নিয়ে। মেনুতে ভেদাভেদের এই ছবি নিয়ে নিন্দা করছেন নেটিজেনরা।
চাপড়া ব্লকে ডিওয়াইএফওয়াই সভাপতি ইমরান মণ্ডল বলেন, ইফতারে সবাইকে সমান খাওয়া উচিত। বৈষম্য কাম্য নয়।