নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সাইবার প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার ঘটনা আকছার ঘটছে। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তি প্রতারকদের ওটিপি বা পিন শেয়ার করা মাত্র ফাঁকা হয়ে গিয়েছে অ্যাকাউন্ট। কিন্তু ওটিপি বা পিন, কিছুই শেয়ার না করেও সাইবার প্রতারণার শিকার হলেন সল্টলেকের এক ৭৫ বছরের বৃদ্ধ। তাঁর ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ব্যবহার করে মাত্র ২ ঘণ্টায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা! ৮ দফায় ওই টাকা স্থানান্তর হয়েছে। প্রতারিত বৃদ্ধ বিধাননগর উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ১৩ জুলাই, রবিবার। অভিযোগে সল্টলেকের ওই বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁর ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩৮৯ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার বার ৫০ হাজার টাকা করে মোট দু’লক্ষ টাকা এবং একবার ৪৯,৮৮৯ টাকা একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয়েছে। ‘অ্যাড পেয়ি’ করে ওই অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট করা হয়েছে। এছাড়া, দু’টি ই-কমার্স সংস্থাকে ১ লক্ষ টাকা করে (মোট দু’লক্ষ টাকা) এবং আরও এক দফায় ৩৭,৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। প্রতারিত বৃদ্ধ ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টের সমস্ত তথ্য পুলিসের কাছে জমা দিয়েছেন।
পুলিস ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকরা একাধিক পদ্ধতিতে টাকা তোলে। প্রথমত, এটিএমের পিন নম্বর জেনে ওটিপি পাঠানো হয়। তা শেয়ার করলেই টাকা তুলে নেয় প্রতারকরা। দ্বিতীয়ত, নানা কৌশলে প্রতারকরা নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করায়। তা দিয়ে গ্রাহকের ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে তারা। এক্ষেত্রে পিন বা ওটিপি লাগে না। তৃতীয়ত, ট্রোজান ভাইরাসের লিঙ্ক পাঠিয়ে ফোন হ্যাক করে ব্যাঙ্কিং তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে প্রতারকরা। এক্ষেত্রেও ওটিপি লাগে না। চতুর্থত, কৌশলে মোবাইল ব্যাঙ্কিং বা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের ইউজার আইডি পেয়ে গেলে ‘ফরগট পাসওয়ার্ড’-এর মাধ্যমে নতুন পিন বা পাসওয়ার্ড তৈরি করে নেয়। এক্ষেত্রেও গ্রাহকের মোবাইলে ওটিপি যায়। সেটি শেয়ার না করলে কিছু করা সম্ভব নয়। সল্টলেকের অভিযোগকারী কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করেননি বলেই জানিয়েছেন। তাহলে কীভাবে সম্ভব হল প্রতারণা, সেটাই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।