সংবাদদাতা, কান্দি: অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। আজ, মঙ্গলবার থেকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ডায়ালিসিস পরিষেবা শুরু হচ্ছে। প্রতিদিন তিনটি শিফটে মোট ১৮জন রোগীর ডায়ালিসিস করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে রোগীর পরিবারে স্বস্তি মিলেছে।
সংবাদদাতা, কান্দি: অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। আজ, মঙ্গলবার থেকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ডায়ালিসিস পরিষেবা শুরু হচ্ছে। প্রতিদিন তিনটি শিফটে মোট ১৮জন রোগীর ডায়ালিসিস করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে রোগীর পরিবারে স্বস্তি মিলেছে।
প্রসঙ্গত, বাসিন্দারা প্রায় একদশক ধরে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ডায়ালিসিস ইউনিট তৈরির দাবি জানিয়ে আসছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের বিভিন্ন অফিসে বাসিন্দারা বহুবার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। কান্দি পুরসভার পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্যদপ্তরকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কান্দির বিধায়ক বিধানসভায় কয়েকবার এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বছর দু’য়েক আগে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শনে আসে। তখন ফের ডায়ালিসিস ইউনিট তৈরির দাবি ওঠে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্যদপ্তর সেটির অনুমোদন দেয়। ওই হাসপাতালে তৈরি হয় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি নতুন ভবন। আজ থেকে ওই ভবনেই কিডনি সমস্যার রোগীদের ডায়ালিসিস পরিষেবা দেওয়া হবে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কান্দির ওই হাসপাতালে ডায়ালিসিস ইউনিটের উদ্বোধন করেন। এদিন থেকে পরিষেবা দেওয়া শুরু হচ্ছে।
কান্দি মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ভবনেই ডায়ালিসিস ইউনিট তৈরি হয়েছে। এই ইউনিটে রয়েছে ছ’টি শয্যা। প্রতিদিন তিনটি শিফটে মোট ১৮জন রোগীর ডায়ালিসিস করা হবে। কান্দি এসএমওএইচ সৌমিক দাস বলেন, বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরেই রোগী ভর্তির প্রক্রিয়া চালু হয়ে যাবে। মঙ্গলবার থেকেই রোগীদের ডায়ালিসিস করা হবে। এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার বলেন, কান্দির বাসিন্দাদের জন্য এটি বিরাট পাওনা। এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য এক দশক ধরে বাসিন্দারা অপেক্ষা করছিলেন। কান্দিবাসীর পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
এতদিন এই এলাকার রোগীদের ডায়ালিসিস করার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হতো। যদিও বহরমপুরের বেসরকারি নার্সিংহোমগুলিতে ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কান্দিতে পরিষেবা শুরু হওয়ায় রোগীর পরিবারে স্বস্তি নেমে এসেছে। কান্দির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক রোগীর পরিজন বলেন, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি প্রায় আড়াই বছর ধরে কিডনির সমস্যায় শয্যাশায়ী। নিয়মিত ডায়ালিসিস করতে বহরমপুরে যেতে হয়। যাতায়াতের খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কান্দিতে পরিষেবা শুরু হলে আমাদের খুব উপকার হবে।