নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আবারও জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সদর হাসপাতালে বিকল ডায়ালিসিস মেশিন। বুধবার রাতে ওই মেশিন আচমকা বিগড়ে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালিসিস পরিষেবা। স্বাভাবিকভাবেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন কিডনির অসুখে আক্রান্ত রোগীরা।
অভিযোগ, ডায়ালিসিস করাতে এসে এদিন ফিরতে হয়েছে অনেককে। দিন কয়েক আগেই জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ডায়ালিসিস মেশিনের রিভার্স ওসমোসিস (আর ও) প্লান্ট বিকল হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে পড়ে পরিষেবা। এর জেরে বেশ কয়েকদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় কিডনির অসুখে আক্রান্ত রোগীদের। অনেক পরিবার বাইরে থেকে মোটা টাকা দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের ডায়ালিসিস করাতে বাধ্য হয়। ফের মেশিন বিগড়ে যাওয়ায় এদিন ক্ষোভ উগড়ে দেন ডায়ালিসিস পরিষেবা নিতে আসা রোগীর পরিবারের সদস্যরা। কেন দু’দিন অন্তর তাঁদের এমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হন রোগীর পরিজনরা। এরপর তড়িঘড়ি কয়েকজন রোগীকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিস করানোর ব্যবস্থা করে কোনওমতে রোগীর পরিবারের ক্ষোভ সামলানোর চেষ্টা করা হয়।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, আমাদের মেডিক্যালের অধীন সদর হাসপাতালে পিপিপি মডেলে চলা ডায়ালিসিস মেশিনটি বুধবার রাতে বিকল হয়ে পড়ে। যার জেরে বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালে রোগীদের ডায়ালিসিস পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু যাঁদের জরুরি ভিত্তিতে ডায়ালিসিস প্রয়োজন, তাঁদের জন্য মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডায়ালিসিসের চাপ রয়েছে। কিন্তু তারমধ্যে থেকেই স্লট বের করে এদিন সদর হাসপাতালের কিছু রোগীর ডায়ালিসিস করানো গিয়েছে। সুপারের দাবি, যে সংস্থা ডায়ালিসিস মেশিন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, তাদের দ্রুত মেশিন সারানোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, টেকনিশিয়ানকে খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি কলকাতা থেকে আসছেন। শুক্রবার জলপাইগুড়িতে পৌঁছে যাবেন টেকনিশিয়ান। সব ঠিকঠাক থাকলে শনিবার থেকে হয়তো সদর হাসপাতালে ফের ডায়ালিসিস চালু করা সম্ভব হবে। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে অবশ্য খবর, সদর হাসপাতালে ডায়ালিসিসের যে পাঁচটি মেশিন রয়েছে, সেগুলি বহু পুরনো। ফলে প্রতি মাসে নিয়ম করে খারাপ হচ্ছে। কখনও মেশিনের আর ও প্লান্ট বিগড়ে যাচ্ছে, কখনও আবার মেশিনের অন্য কোনও সিস্টেম কাজ করছে না। ফলে সুষ্ঠুভাবে ডায়ালিসিস পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোনওমতে জোড়াতাপ্পি দিয়ে চালানো মেশিনে ডায়ালিসিস করাতে গিয়ে রোগীদেরও যথেষ্টই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিজনদের। বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও পিপিপি মডেলে চলা ডায়ালিসিসের ওই মেশিন কেন বদলানো হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিডনি রোগীদের বাড়ির লোকজন। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই ডায়ালিসিস মেশিনের সংখ্যা কম। একটি শিফ্টে পাঁচজনের বেশি রোগী পরিষেবা পান না। ডায়ালিসিস করানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকতে হয়। তার উপর দু’দিন অন্তর মেশিন বিগড়ে যাওয়া তো আছেই। জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপারের বক্তব্য, সদর হাসপাতালে শীঘ্রই নয়া ডায়ালিসিস মেশিন চলে আসবে। তখন আর কোনও সমস্যা থাকবে না।