Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

হাঁটা দেখে রোগ নির্ণয়

পরামর্শে শিয়ালদহ ইএসআই ইনস্টিটিউট অব পেইন ম্যানেজমেন্টের পেইন ইউনিটের ইন চার্জ ডাঃ গার্গী নন্দী।

হাঁটা দেখে রোগ নির্ণয়
  • ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

জনশ্রুতি, বিধানচন্দ্র রায় নাকি রোগীর পায়ের বুড়ো আঙুল দেখে রোগ নির্ণয় করতে পারতেন। যদিও এই ক্ষমতা নিয়ে চিকিৎসক মহলে নানা মতান্তর ও সমর্থন রয়েছে। তবে রোগীর শরীরের ভঙ্গি, রোগীর হাঁটা, হাঁটার ধরন এসব দেখেও কিছু রোগ চিহ্নিত করা যায়। বিশেষ করে হাড়ের অসুখ ও হাড়ের নানা ব্যথাবেদনার ক্ষেত্রে হাঁটা দেখে রোগ নির্ণয় অনেক সময় করা হয়।

Advertisement

১. স্পাইনাল ক্যানাল স্টোনোসিস: বয়সকালে স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়ে অনেকের হাঁটার ধরন বদলে যায়। শপিং মল-এ কার্ট ঠেলে নিয়ে যাওয়ার মতো রোগী সামনের দিকে একটু এগিয়ে ঝুঁকে হাঁটেন। একে বলে স্পাইনাল ক্যানাল স্টোনোসিস। যাবতীয় পরীক্ষা করার আগে এই হাঁটার পদ্ধতি দেখে বেশিরভাগ সময়ই চেনা যায় অসুখটি।

২. মাসল স্প্যাজম: কোমরের পেশিতে কোনওরকম চোট থাকলে বা পেশি শক্ত (স্প্যাজম) হয়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় রোগী সোজা হয়ে হাঁটেন। কোনওদিকে স্বাভাবিক নড়নচড়নও খুব একটা থাকে না। মূলত কোমরের পেশির সমস্যা থেকেই এই সমস্যা হয়।

৩. নি অস্টিওআর্থ্রাইটিস: হাঁটার দু’টি ভাগ হয়। এক, যখন পুরো পায়ের পাতা মেঝের উপর থাকছে, দুই, পায়ের আঙুল বা গোড়ালি যখন মেঝে থেকে উপরের দিকে থাকে। যাঁদের একটি পায়ের হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়েছে, তাঁরা ওই পায়ের পাতাটি বেশিক্ষণ মেঝের উপর রাখেন না। কারণ, মেঝের সঙ্গে উল্লম্বভাবে চাপ পড়লে রোগীর পায়ে ব্যথা বাড়ে। তিনি দ্রুত মেঝে থেকে ওই পা তুলে নেন। অনেকে হাঁটু ভাঁজ করতেও পারেন না। ফলে সেক্ষেত্রেও হাঁটার পদ্ধতি বদলায়। কারও কারও ক্ষেত্রে দুলে দুলে হাঁটা বা একটু পা টেনে টেনে হাঁটার উপসর্গ দেখা দেয়। তা দেখেও রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা করা সম্ভব।

৪. মোটর নিউরোমা: অনেকের ক্ষেত্রে পায়ের দুই আঙুলের ফাঁকে নার্ভ বেড়ে যাওয়ার সমস্যা হয়। ফলে রোগীর হাঁটার সমস্যা হয়। তিনি অনেকটা হিলের উপর বা গোড়ালির উপর ভর করে হাঁটার চেষ্টা করেন। 

৫. স্যাক্রোলিয়াক জয়েন্ট পেইন: কোমরের জয়েন্টের এই অসুখে হাঁটার ধরন বদলায়। হাঁটার সময় এক দিকের কোমর ওঠানামা করতে থাকে। এছাড়াও গেইট অ্যানালিসিস ল্যাবেও রোগীর হাঁটা পর্যালোচনা করা হয়। এই ল্যাবে রোগীকে ৬-৭ মিটার হাঁটতে বলা হয়। সেখানে তাঁর হাঁটু, কোমর ও পায়ের নানা কোণে রিফ্লেক্টর লাগিয়ে তাদের কৌণিক অবস্থান মাপা হয়। ফুট প্রেশার সেন্সর মনিটর করা হয়। তারপর তা নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্যাটার্নে ফেলে দেখা হয় কোন রোগের ক্ষেত্রে হাঁটার ধরন কীভাবে ও কতটা বদলাচ্ছে। এভাবে স্লিপ ডিস্ক, ফ্ল্যাট ফুট ইত্যাদি অসুখও নির্ণীত হয়। পুরনো ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসা দেওয়ার পরেও রোগীর গেইট অ্যানালিসিস করে দেখা হয় চিকিৎসায় কতটা উন্নতি হল। এভাবেই নানা হাড়ের রোগের চিকিৎসায় গেইট অ্যানালিসিস কাজে আসছে রোগীর। 


লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ