Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই সপ্তাহ বিকল এক্স রে মেশিন, হুঁশই নেই  কর্তৃপক্ষের

দুই সপ্তাহ বিকল এক্স রে মেশিন, হুঁশই নেই  কর্তৃপক্ষের
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত দু’সপ্তাহ ধরে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের অধীন সদর হাসপাতালে এক্স রে মেশিন বিকল। অথচ হুঁশ নেই কর্তৃপক্ষের। এদিকে, এক্স রে পরিষেবা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। বাইরে থেকে বেশি টাকা দিয়ে এক্স রে করাতে হচ্ছে তাঁদের। অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব হচ্ছে না। 
Advertisement
সদর হাসপাতলে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের অভিযোগ, রোজই বলা হচ্ছে এক্স রে মেশিন ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও তা এখনও সচল হয়নি। সদর হাসপাতালে কবে আবার এক্স রে পরিষেবা চালু হবে তার কোনও সদুত্তর দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। 
রবিবার মেডিক্যালের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ অবশ্য বলেন, সদর হাসপাতালে পিপিপি মডেলে এক্স রে পরিষেবা দেওয়া হয়। মেশিনটি খারাপ হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেটি সারাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এক্স রে চালু না হওয়ায় বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনে জানানো হয়েছে। 
সুপারের দাবি, যে সংস্থার সঙ্গে মউ রয়েছে, শনিবার তাদের ৪৮ ঘণ্টা চরম সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে যদি তারা এক্স রে পরিষেবা চালু করতে না পারে, সেক্ষেত্রে ওই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য স্বাস্থ্যভবনকে বলা হবে। 
রোগীদের অভিযোগ, জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল থেকে এক্স রে লিখে দেওয়া হচ্ছে। জিজ্ঞেস করলে বলা হচ্ছে, মেডিক্যালের মেইন ইউনিট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে এক্স রে করিয়ে আনুন। সদর হাসপাতাল থেকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের দূরত্ব দুই কিমিরও বেশি। টোটোয় একজনের যাতায়াতে ৬০ টাকা খরচ হয়ে যায়। রোগীর সঙ্গে যদি একজনও থাকেন, তাহলে ওই খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হবে। তাছাড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে লম্বা লাইন পড়ছে। দিনের দিন সেখানে এক্স রে হচ্ছে না। 
কিছুদিন আগে মেশিনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ডায়ালিসিসের মতো জরুরি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় কিডনির অসুখে আক্রান্তদের। তারপর কোনওমতে সেই মেশিন সচল করা হয়। কিন্তু হাসপাতাল সূত্রে খবর, ডায়ালিসিস মেশিনের যা অবস্থা, যেকোনও সময় তা আবার বিগড়ে যেতে পারে। মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছিল, স্বাস্থ্যভবন থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গিয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে পাঁচটি ডায়ালিসিস মেশিন চলে আসবে। কিন্তু রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই মেশিন এসে পৌঁছয়নি। এনিয়ে মেডিক্যালের সুপারের দাবি, স্বাস্থ্যভবন থেকে পাঁচটি ডায়ালিসিস মেশিন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শীঘ্রই চলে আসবে। রোগীদের অভিযোগ, সদর হাসপাতালে সিটিস্ক্যান মেশিনেও মাঝেমধ্যে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আলট্রাসোনোগ্রাফির তিনমাস পরে ডেট পড়ছে। কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ