নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: কলকাতায় রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। পারিশ্রমিক বাবদ পাওয়া টাকায় চলত সংসার। মাটির ঘরেই দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ছিল পাকাবাড়ির স্বপ্ন। ছেলেরা যেন মাথা গোঁজার পাকা ঠাঁই পায়। তার জন্য অল্প অল্প করে সঞ্চয়ও করছিলেন। কিন্তু, অধরাই থেকে গেল স্বপ্ন! স্বপ্ন পূরণের আগেই পরিবারে নেমে এসেছে দুঃস্বপ্নের কালো মেঘ। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে কেড়ে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। রবিবার রাতে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা ভোজালি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয় বিষ্ণুপদ মণ্ডলকে (৩৫)। আততায়ীদের হাতে বিষ্ণুপদর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারকে ভালো রাখার তাঁর স্বপ্নেরও মৃত্যু হয়েছে। দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে এখন অথৈ জলে নন্দীগ্রামের নিহত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী সুস্মিতা মণ্ডল।
Advertisement
নন্দীগ্রামের গড়চক্রবেড়িয়া থেকে প্রায় ৮০০মিটার দূরে সাতখণ্ড জালপাই গ্রাম। গ্রামের রাস্তার ধারে বিষ্ণুপদর বাড়ি। টালির ছাউনি দেওয়া মাটির বাড়ি। সোমবার দুপুরে সেই বাড়িতে পৌঁছতেই দেখা গেল, সদ্য স্বামী হারানো সুস্মিতা কেঁদেই চলেছেন। মাকে ঘিরে রয়েছে দুই ভাই সৌমেন ও সৌম্যদীপ। আত্মীয়স্বজনরা তাঁদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কিন্তু, কোনও সান্ত্বনাই সদ্য স্বামীহারা সুস্মিতাকে শান্ত করতে পারছে না। সাতখণ্ড জালপাই থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে দাউদপুর পঞ্চায়েতের কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন বিদ্যাভবন। সেখানে সমবায় ভোটে গণ্ডগোলের আঁচ এভাবে তাঁর বাড়িতে এসে পড়বে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি সুস্মিতারা। অথচ, ভাগ্যের পরিহাস! সমবায় ভোটের সঙ্গে বিন্দুমাত্র যোগ না থাকা বিষ্ণুপদকে বেঘোরে প্রাণ খোয়াতে হল।
নিহত বিষ্ণুপদর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভাস্কর মণ্ডল ও শেখ আবু কালাম রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁর বাড়ির সামনে ছিলেন। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গালিগালাজ করার সময়ও তাঁরা ছিলেন। রাতে খাওয়া দাওয়া সারতে দু’জনে বাড়ি যান। তারপরই চিৎকার চেঁচামেচি শুনে তাঁরা ছুটে আসেন। সঙ্কটজনক অবস্থায় বিষ্ণুপদকে বাড়ি থেকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি এবং সেখান থেকে তমলুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় বিষ্ণুপদর পাশেই ছিলেন ভাস্কর। সোমবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে বসে তিনি বলেন, বুকে ভোজালি কোপ মারার পর জলের মতো রক্ত গড়াচ্ছিল। ওই অবস্থায় বিষ্ণুপদ মাটিতে বসে পড়েন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে নন্দীগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তমলুক নিয়ে যাওয়ার পথে বারবার পা ম্যাসাজ করার আর্জি জানাচ্ছিল। আমি সেটাই করে যাচ্ছিলাম। আমার হাত দু’টো ধরে বারবার বাঁচার কাকুতি মিনতি করছিল। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। এভাবে একটা নিরীহ মানুষের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।নিহতের স্ত্রী সুস্মিতা মণ্ডল বলেন, আমার স্বামী কলকাতায় রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। ধান কাটার মরশুম চলায় প্রায় ২০দিন বাড়িতে ছিলেন। পরিবারের আমার স্বামী একমাত্র রোজগেরে সদস্য। আমার দুই নাবালক সন্তান স্কুলে পড়ে। কীভাবে ছেলেদের মানুষ করব জানি না। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যারা আমার এতবড় সর্বনাশ করল তাদের কোনওদিন ক্ষমা করতে পারব না।
নিহত বিষ্ণুপদর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভাস্কর মণ্ডল ও শেখ আবু কালাম রবিবার রাত পর্যন্ত তাঁর বাড়ির সামনে ছিলেন। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গালিগালাজ করার সময়ও তাঁরা ছিলেন। রাতে খাওয়া দাওয়া সারতে দু’জনে বাড়ি যান। তারপরই চিৎকার চেঁচামেচি শুনে তাঁরা ছুটে আসেন। সঙ্কটজনক অবস্থায় বিষ্ণুপদকে বাড়ি থেকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি এবং সেখান থেকে তমলুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় বিষ্ণুপদর পাশেই ছিলেন ভাস্কর। সোমবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে বসে তিনি বলেন, বুকে ভোজালি কোপ মারার পর জলের মতো রক্ত গড়াচ্ছিল। ওই অবস্থায় বিষ্ণুপদ মাটিতে বসে পড়েন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে নন্দীগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে তমলুক নিয়ে যাওয়ার পথে বারবার পা ম্যাসাজ করার আর্জি জানাচ্ছিল। আমি সেটাই করে যাচ্ছিলাম। আমার হাত দু’টো ধরে বারবার বাঁচার কাকুতি মিনতি করছিল। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। এভাবে একটা নিরীহ মানুষের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।নিহতের স্ত্রী সুস্মিতা মণ্ডল বলেন, আমার স্বামী কলকাতায় রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। ধান কাটার মরশুম চলায় প্রায় ২০দিন বাড়িতে ছিলেন। পরিবারের আমার স্বামী একমাত্র রোজগেরে সদস্য। আমার দুই নাবালক সন্তান স্কুলে পড়ে। কীভাবে ছেলেদের মানুষ করব জানি না। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যারা আমার এতবড় সর্বনাশ করল তাদের কোনওদিন ক্ষমা করতে পারব না।



