Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই জেলায় হাতির আতঙ্ক নিয়েই মকর পরবের প্রস্তুতি আদিবাসীদের  

দুই জেলায় হাতির আতঙ্ক নিয়েই মকর পরবের প্রস্তুতি আদিবাসীদের
 
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মকর পরবের সময়ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় হাতির আতঙ্কে ভুগছেন বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দা। শুধু মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম ডিভিশনে ৯২টি হাতি রয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই গ্রামে গ্রামে মকর পরবের প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু বহু গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে হাতি রয়েছে। এর ফলে গ্রামবাসীরা সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বেরতে ভয় পাচ্ছেন। খাবারের সন্ধানে হাতির দল গ্রামে আক্রমণ চালাতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানান, হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিকেলের পর থেকে ভোর পর্যন্ত গ্রামবাসীদের জঙ্গলে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম  বলেন, মকর উৎসব উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় বনকর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে। রেঞ্জ অফিসারদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।আদিবাসীদের প্রধান উৎসব মকর পরবকে ঘিরে জঙ্গলমহলের সর্বত্রই উৎসবের মেজাজ। মকর পরবে আদিবাসীদের বাড়িতে টুসুপুজোর আয়োজন করা হয়। ফলমূল, পিঠে ও খই-মুড়কির নৈবেদ্য সাজিয়ে এক রাতে ১৬বার টুসুমণির পুজো করেন কুমারী ও বিবাহিত মহিলারা। সারারাত গান শুনিয়ে ‘জাগিয়ে রাখা’ হয়েছিল সমৃদ্ধির দেবী টুসুমণিকে। টুসুপুজোর রাতে বাড়ি বাড়ি চালের গুঁড়ো দিয়ে পিঠে তৈরি হয়। এছাড়া, জঙ্গলমহলের জনপ্রিয় মাংস পিঠে, তিল পিঠেও তৈরি হয়। মকর পরব উপলক্ষ্যে নতুন বস্ত্র পরিধান করার রীতিও আছে। কিন্তু এই উৎসবের সময় দুই জেলায় প্রচুর হাতির উপস্থিতি গ্রামবাসীদের উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে।মেদিনীপুর জেলার শালবনীর বাসিন্দা স্বপন মাহাত বলেন, সারা জেলার মানুষ পরবে মেতে উঠবেন। কিন্তু হাতির আতঙ্ক তো রয়েইছে। জঙ্গলের রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা নেই। হাতির সমস্যা যে কবে মিটবে, তার কোনও সদুত্তর নেই। মেদিনীপুর ডিভিশনে ৩৮টি হাতি রয়েছে। হাতির দল খাবারের সন্ধানে জমির ফসলও নষ্ট করছে। এর ফলে মকর পরবের মাঝে চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। মেদিনীপুর জেলার রূপনারায়ণ ডিভিশনেও প্রচুর হাতি রয়েছে। এর ফলে বহু এলাকায় হাতির হানায় আলু চাষের ক্ষতি হয়েছে। গ্রামবাসীদের অনুমান, যে কোনও সময় হাতির দল খাবারের সন্ধানে গ্রামে আক্রমণ চালাতে পারে।ঝাড়গ্রাম জেলায় মকর পরব ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। কিন্তু এখানেও বিভিন্ন গ্রামে হাতির আতঙ্ক রয়েছে। ঝাড়গ্রাম ডিভিশনে ৫৪টি হাতি রয়েছে। এর মধ্যে লোধাশুলি, পেনিয়াভাঙ্গা, গিধনি, আমতলিয়া, মানিকপাড়া, বরাশুলি ও গোপীবল্লভপুরের বিভিন্ন জঙ্গলে হাতি থাকায় আতঙ্ক বাড়ছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ