Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই বর্ধমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে গুচ্ছের পরিকল্পনা রাজ্যের

দুই বর্ধমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে গুচ্ছের পরিকল্পনা রাজ্যের
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার হচ্ছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। চলতি অর্থবর্ষে দুই জেলার থেকে এমএসএমই সেক্টরের মাধ্যমে শিল্প গড়তে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও নিজেদের ব্যবসা করতে এগিয়ে এসেছে দুই জেলার যুবরা। ৪ হাজার ৭৫৭ জন উদ্যোগী যুবক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ১১৪.২৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা মিলিত ভাবে পাঁচ একরের বেশি জমির উপর নিজেদের শিল্প তালুক গড়তে চাইলে পরিকাঠামো গড়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই প্রস্তাবেও প্রবল উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি শিল্পতালুকের পরিকাঠামো গড়ার প্রস্তাব এসেছে। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের সৃজনী হলে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিনার্জি ও বিজনেস ফেসিলিটেশন কনক্লেভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই তথ্যগুলি তুলে ধরা হয় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএসই) দপ্তরের পক্ষ থেকে। 
Advertisement
দপ্তরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা অনুষ্ঠানে বলেন, যেভাবে দুই জেলায় ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পের বিকাশ হচ্ছে, তাতে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। কাজ পাবেন এক লক্ষ মানুষ। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন তিনটি শিল্পতালুক গড়ে তোলা হচ্ছে। এছাড়া আমরা পরিকাঠামো গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বহু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বেসরকারি শিল্পতালুক গড়তে তৎপর হয়েছে। 
দুর্গাপুরের সিনার্জিকে ঘিরে এদিন ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলে প্রবল উৎসাহ ছিল। আলোচনার পাশাপাশি উপভোক্তাদের মঞ্চ থেকে অনুমোদনপত্র দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুই জেলা থেকে ১৯ জনের হাতে এই অনুমোদন তুলে দেওয়া হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে দপ্তরের মন্ত্রী ছাড়াও দুই জেলা সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি, শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, দুই জেলাশাসক পোন্নমবলম এস ও আয়েষা রানি এ উপস্থিত ছিলেন। দুই জেলার শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দপ্তরের প্রধান সচিব রাজেশ পাণ্ডে। তিনি বলেন, এদিন আমি আসানসোলে একটি টেক্সটাইল ইন্ড্রাস্ট্রি পরিদর্শন করেছি। নতুন গড়ে ওঠা ইউনিটটি অত্যন্ত ভালো কাজ করছে। এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত প্রস্তাব দেন, যেখানে আইএএস, আইপিএস পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য সরকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে তেমনি নতুন শিল্পদ্যোগী হতে ইচ্ছুকদের জন্য এন্টারপেনারশিপ স্কুল দুর্গাপুরে খোলা হোক। বহু যুবক উপকৃত হবেন। বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, হরেরাম সিংরা বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের জন্যই এই ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হয়। অন্য কোনও রাজ্যে এই সুবিধা নেই। দুর্গাপুর স্মল ইন্ড্রাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রতন আগরওয়াল অভিযোগ করেন, দুর্গাপুরে আট কাঠা জমিতেও যদি কেউ মাইক্রো ইউনিট খুলতে চান তাঁর কাছ থেকে  পুরসভা পাঁচ লক্ষ টাকা ফি দাবি করছে। যদিও পুরসভার কমিশনার একে আজাদ ইসলাম বলেন, শিল্প অনুযায়ী সেই এলাকার রাস্তাঘাট ড্রেন উন্নয়নের জন্য এক থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ফি নেওয়া হয়। 
‌এদিন, চন্দ্রনাথ সিনহা জানিয়েছেন, আসানসোলের ধর্মায় সাত একর জমির উপর ১৪.৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে শিল্পতালুক গড়ার কাজ ৫৫ শতাংশ হয়েছে। আসানসোল চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক শম্ভুনাথ ঝাঁ অনুষ্ঠানে বলেন, অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। আমরাও ইউনিট গড়তে আগ্রহী। এলাকা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হোক। 
সম্পর্কিত সংবাদ