Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঢ্যাড়া পিটিয়ে নবান্নের দিনক্ষণ জানানোর রেওয়াজ কমছে

ঢ্যাড়া পিটিয়ে নবান্নের দিনক্ষণ জানানোর রেওয়াজ কমছে
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: নবান্নের দিনক্ষণ জানাতে ঢ্যাড়া পিটিয়ে প্রচারের রেওয়াজ বহু বছরের। কান্দি মহকুমার বিভিন্ন গ্রামে আজও সেই রেওয়াজ চালু রয়েছে। তাই নবান্নের মাসে কদর বেড়ে যায় ঢ্যাড়া বাদকদের। তবে এবছর ঢ্যাড়া বাদকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় অনেক গ্রামে টোটোর মাধ্যমে প্রচারের সিদ্বান্তও নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
অগ্রহায়ণের প্রথম দিনেই ঢ্যাড়ায় কাঠি পড়ে গিয়েছে। গ্রামে গ্রামে প্রচার করা হচ্ছে নবান্নের দিনক্ষণ। কান্দি মহকুমায় হাতে গোনা ঢ্যাড়া বাদক থাকায় নবান্নের মাসে তাঁদের কদর বেড়েছে। ভরতপুর দাসপাড়ার ঢ্যাড়া বাদক হীরা দাস বলেন, ঢ্যাড়া দেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। দায়িত্বের সঙ্গে এই কাজ করতে হয়। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির লোকজনকে বোঝাতে হয় কী কারণে ঢ্যাড়া দেওয়া হচ্ছে। তাই এই পেশায় বেশি লোকজন নেই।ঢ্যাড়া বাদকের দাবি, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই এলাকায় নবান্ন শুরু হচ্ছে। তবে এবছর একদিনের ঢ্যাড়া প্রচারের মজুরি হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। গতবছরের তুলনায় যা ৩০০ টাকা বেশি।
এদিকে কোন গ্রামে কবে নবান্ন হবে তা গ্রামের প্রবীণরা একসঙ্গে বসে ঠিক করেন। তবে কান্দি শহরের একাংশ ও কান্দির দোহালিয়া গ্রামে নবান্নের দিন ঠিক করেন দক্ষিণা কালী মন্দিরের পুরোহিতরা। মন্দির কমিটির সম্পাদক গৌরব চট্টোপাধ্যায় বলেন, এই এলাকার বাসিন্দারা দক্ষিণা কালীকে কুলদেবী হিসেবে মানেন। তাই গোটা এলাকায় একই দিনে নবান্ন হয়। মন্দিরের পুরোহিতরা দিন ঠিক করার পর তা এলাকায় ঢ্যাড়া দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঢ্যাড়া বাদকদের দর বেড়ে যাওয়ায় অনেক গ্রামে টোটোয় মাইক বেঁধে প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খড়গ্রাম ব্লকের ধনিগ্রামের বাসিন্দা সুকুমার মার্জিত বলেন, আগের বছরও ঢ্যাড়া দিয়ে গ্রামে নবান্নের দিন প্রচার করা হয়েছিল। তবে ঢ্যাড়া বাদকের মৃত্যু হওয়ায় এবছর টোটোর মাধ্যমে প্রচার করা হবে। অন্যগ্রামের ঢ্যাড়া বাদককে আনতে গেলে ১০০০ টাকা দাবি করছেন। তাই গ্রামের মানুষ টোটোর মাধ্যমে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভরতপুর ১ ব্লকের শ্যামপুর গ্রামেও নবান্নের টোটো প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন সুধীরকুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, আজকাল টোটোর মাধ্যমে সব ধরনের প্রচার করা হচ্ছে। নবান্নের ক্ষেত্রেই বা হবে না কেন? অল্প খরচে টোটোয় প্রচার করা যায়। কিন্তু ঢ্যাড়া প্রচার করতে গেলে নগদের সঙ্গে চাল, ডাল, তেলও দিতে হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ