নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: আগেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে সামশেরগঞ্জ। এবার স্বাভাবিক হচ্ছে ধুলিয়ান শহর। গত শুক্রবার ও শনিবার এই শহরেই সব থেকে বেশি তাণ্ডবলীলা চলে। সেসব ভুলে মানুষ বুধবার থেকে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছেন। ব্যবসায় ফিরছেন দোকানদারেরা। ধুলিয়ান শহরের অধিকাংশ বাজারে দোকানপাট খুলেছে। সব্জি বাজার থেকে চালপট্টি, আলুপট্টি সবই খুলল এদিন। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় লক্ষ করা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সকলেই চাইছেন, দ্রুত স্বাভাবিক হোক জনজীবন।
জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায় এদিন বলেন, পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক। অনেক দোকানপাট খুলেছে। নতুন করে কোথাও কোনও বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর নেই। সমস্ত জায়গাতেই পুলিস ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে টহল দিচ্ছে। প্রত্যেকটি পাড়ার বড় মোড়ে আমাদের সিনিয়র অফিসাররা দায়িত্বে আছেন।
সামশেরগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আমিরুল ইসলাম বলেন, ধুলিয়ান শহরে বাইরে থেকে লরি করে যে সমস্ত মালপত্র আসে, সেগুলিও এদিন এসেছে। শান্তিপূর্ণভাবেই মালপত্র খালি হচ্ছে পেঁয়াজ বাজার, আলু বাজার সব্জি বাজারে। এদিন কাপড়ের বাজার, চালডাল পট্টিতে স্বাভাবিক কাজ হয়েছে। মাছপট্টি ও মাংসপট্টিতেও দোকান সব খুলেছে। গোটা ধুলিয়ান শহরের অধিকাংশ দোকানে খুলেছে। কিছু কিছু দোকান বন্ধ আছে, তার কারণ অনেকেরই স্টাফ নেই। অনেকের মালিক আবার বাইরে গিয়েছেন। তাই কয়েকটি হাতে গোনা দোকান খোলেনি। মানুষজনও সহযোগিতা করছেন।
মঙ্গলবার ধুলিয়ান শহরের বেশ কিছু দোকান বন্ধ থাকায় অনেকেই অপপ্রচার করেছে বলে দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। বহু বছর ধরেই প্রতি মঙ্গলবার শহরের বাজার বন্ধ থাকে। আর ধুলিয়ান শহরে হালখাতা হয় অধিকাংশই নতুন আর্থিক বছরের শুরুতে। বিধায়ক এদিন আরও বলেন, বাজার মঙ্গলবার বন্ধ থাকে আমাদের এখানে। বেশিরভাগ মানুষ ১ এপ্রিল এখানে দোকানে খাতা পুজো করে। নতুন আর্থিক বছরে নতুন খাতা করে ব্যবসা শুরু হয়। সেজন্য গতকাল এখানে খুব একটা পুজো দেখা যায়নি। তবে আজকে ৭৫ শতাংশ দোকানই খুলেছে। ধুলিয়ান শহরের স্থানীয় এক ওষুধের ব্যবসায়ী বলেন, মঙ্গলবারই দোকান খুলেছিলাম। অনেক মানুষ এসে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনেছেন। বুধবার সকাল থেকে দোকানে ভালো ভিড় আছে। রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দেখছি, যান চলাচলও চলছে।
আনাজের বাজারে ধুলিয়ানের বাসিন্দা রাহুল ঘোষ বলেন, সামশেরগঞ্জের মধ্যে ধুলিয়ান শহরের অবস্থা সব থেকে খারাপ ছিল। আমরা এত বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। কখনও এইরকম পরিস্থিতির আসবে, ভাবতে পারিনি। বাড়িতে চাল, ডাল থাকলেও সব্জি ও আনাজপত্র কিছুই নেই। তাই বাজারে এসেছি। অনেক দোকানপাট খুলেছে। পুলিস এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সমস্ত জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে। নতুন করে আর গণ্ডগোল হবে বলে মনে হয় না। ধুলিয়ানের বাসিন্দা মিতালী মণ্ডল বলেন, আমরা অশান্তি চাই না। সম্প্রীতির এই শহরে আগের মতো মিলেমিশে বসবাস করতে চাই। পুলিস প্রশাসনের উপর আস্থা আছে। তবে তাদের আরও সক্রিয় হওয়া দরকার। বিএসএফ এলাকায় যেভাবে টহলদারি দিচ্ছে, তাতে আমাদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কোনও অসুবিধা হল না। -নিজস্ব চিত্র