নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একদিকে চলছে ধরপাকড়, অন্যদিকে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি রুখতেও বেশ সতর্ক প্রশাসন। ফলে জোড়া কারণে ব্যাকফুটে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। অনেকে যেমন সেদেশের টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে অনুপ্রবেশ করছেন, তেমনি অনেকে বেশ কয়েক বছর ধরে এদেশে থাকলেও ধরপাকড় আর কড়াকড়ির মাঝে পালানোর পথ খুঁজছেন। চোরাপথ তো বটেই— গেদে, পেট্রাপোলের মতো সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পালানোর আগেই ধরা পড়ছে বেশ কিছু অনুপ্রবেশকারী। তাদের ব্যাপারে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, দুই দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণের কাগজ রয়েছে তাদের!
Advertisement
উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল থানায় ২২ ডিসেম্বর দায়ের হওয়া একটি অভিযোগকে। ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে বাংলাদেশ পালানোর সময় ইমিগ্রেশনের হাতে ধরা পড়ে এক বাংলাদেশি। সে সাত বছর ধরে ভারতে দিব্যি আত্মগোপন করেছিল। শুধু তাই নয়, ভারতীয় ভোটার কার্ড, রেশন এমনকী ভারতীয় পাসপোর্ট পর্যন্ত বানিয়ে ফেলেছিল ওই অনুপ্রবেশকারী। চারিদিকে যখন ধরপাকড়, তখন সেই পাসপোর্ট দেখিয়েই বাংলাদেশ পালাতে গিয়ে ইমিগ্রেশনের হাতে আটক হয় শৈলেন বিশ্বাস নামের ওই ব্যক্তি। দেখা যায়, ৫৪ বছরের ওই প্রৌঢ় ভারতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ধানতলা থানায় এলাকার বড়বেড়িয়া মধ্যপাড়া কলোনির বাসিন্দা হলেও তার রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব। সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডা থানা এলাকার বাসিন্দা সে। গত বছর ২২ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন সেন্টারে পৌঁছয়। সেখানেই ধরা পড়ে, ওই ব্যক্তির বাংলাদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে। ২০২৭ সালে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে শৈলেন এই দেশে এসেছিল। তারপর থেকে সে এই দেশেই থেকে যায়। এরই মাঝে বেআইনি পথে ভারতীয় পরিচয় পত্র, ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলে। পরে সেই পরিচয় পত্রের সুবাদেই পাসপোর্টও মিলে যায়। কেবল বাংলাদেশে তার ইংরেজি নাম Soilen হলেও এদেশের পরিচয়পত্রে নজর এড়াতে Sailen হিসাবে নিজের নাম তোলে সে। ওই বাংলাদেশি নাগরিককে তুলে দেওয়া হয় পেট্রাপোল থানার হাতে।
ইমিগ্রেশন দপ্তরের তরফে দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পেট্রাপোল থানা। সেই থানার তরফেই রানাঘাট ২ ব্লকের কাছে ধৃত শৈলেনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় ভোটার কার্ডের বৈধতা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, ইলেকশন কমিশনের পোর্টালে দেখা গিয়েছে সেই ভোটার কার্ড বৈধ। অর্থাৎ অবৈধ কাগজপত্র দিয়ে বৈধ কার্ড বানাতে সক্ষম হয়েছিল শৈলেন। কিন্তু কীভাবে? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। যদিও এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। বাংলাদেশি ধরপাকড়ের মাঝে এরকম চিঠি আসছে ব্লক অফিসগুলিতে। যেখানে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানতে চাওয়া হচ্ছে, ধৃত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পরিচয় পত্রের বৈধতা। ফলে একদিকে দুয়ারে সরকারের চাপ, আর অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় পত্র নিয়ে বৈধতা যাচাইয়ের চিঠি। জোড়া চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ব্লকের কর্তারা। শুধু তাই নয়, দেশের সুরক্ষা জড়িত থাকায় বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে এই ধরনের বিষয়গুলিতে। সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে ব্লক স্তরের এক কর্তা বলেন, এরকম একটি চিঠি এসেছে। আমরা ইলেকশন কমিশনের পোর্টালে দেখেছি কার্ডটি বৈধ। তবে কীভাবে সে সেটি বানিয়েছিল, তা খোঁজ করে দেখা হবে। বাকি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।
ইমিগ্রেশন দপ্তরের তরফে দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পেট্রাপোল থানা। সেই থানার তরফেই রানাঘাট ২ ব্লকের কাছে ধৃত শৈলেনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় ভোটার কার্ডের বৈধতা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, ইলেকশন কমিশনের পোর্টালে দেখা গিয়েছে সেই ভোটার কার্ড বৈধ। অর্থাৎ অবৈধ কাগজপত্র দিয়ে বৈধ কার্ড বানাতে সক্ষম হয়েছিল শৈলেন। কিন্তু কীভাবে? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। যদিও এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। বাংলাদেশি ধরপাকড়ের মাঝে এরকম চিঠি আসছে ব্লক অফিসগুলিতে। যেখানে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানতে চাওয়া হচ্ছে, ধৃত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় পরিচয় পত্রের বৈধতা। ফলে একদিকে দুয়ারে সরকারের চাপ, আর অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় পত্র নিয়ে বৈধতা যাচাইয়ের চিঠি। জোড়া চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ব্লকের কর্তারা। শুধু তাই নয়, দেশের সুরক্ষা জড়িত থাকায় বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে এই ধরনের বিষয়গুলিতে। সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে ব্লক স্তরের এক কর্তা বলেন, এরকম একটি চিঠি এসেছে। আমরা ইলেকশন কমিশনের পোর্টালে দেখেছি কার্ডটি বৈধ। তবে কীভাবে সে সেটি বানিয়েছিল, তা খোঁজ করে দেখা হবে। বাকি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।



