নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: যুবতীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসককে হেফাজতে নিল বহরমপুর থানার পুলিস। গত ২৬ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট ডক্টর সুষীম মুকুল মিত্র। আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এরই মধ্যে সোমবার পুলিসের তরফে অভিযুক্তকে হেফাজতে চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের ছয়দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অভিযুক্তের আইনজীবী পীযূষকান্তি ঘোষ বলেন, পুলিসের তরফ থেকে ১৪ দিনের হেফাজত চাওয়া হয়। তবে বিচারক ছয়দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। জানা গিয়েছে, বহরমপুরে নামী হোটেলে ডেকে পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাইয়ে দিয়ে কলকাতার এক যুবতীকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। গত ৯ ডিসেম্বর বহরমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই যুবতী। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বাড়ি বেলঘরিয়া এলাকায় হলেও তিনি চাকরিসূত্রে বহরমপুর শহরে থাকেন। গত ৮ অক্টোবর গল্ফগ্রিনের ওই যুবতীকে কলকাতায় নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান ওই চিকিৎসক। তারপর ডিনারে যাওয়ার নাম করে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে দেওয়া হয়। তা খাওয়ার পরই ওই যুবতী অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তারপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলেই অভিযোগ। এই ঘটনার পর ২ ডিসেম্বর ফের ওই যুবতীকে বহরমপুরের একটি হোটেলে ডেকে একই ঘটনা ঘটানো হয় এবং শাসানো হয়। যুবতীর গলা চেপে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিস মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। মামলা দায়ের হতেই ওই চিকিৎসক গা ঢাকা দেয়। তার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে পুলিস। অবশেষে ঘটনার ১৭ দিন পর বহরমপুর জেলা আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে অভিযুক্ত। পুলিস এদিন তাকে হেফাজতে নিল। বহরমপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



