Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধর্ষণ মামলায় আন্তঃরাষ্ট্রীয় ভিডিও কনফারেন্স, দোষী সাব্যস্ত

ধর্ষণ মামলায় আন্তঃরাষ্ট্রীয় ভিডিও কনফারেন্স, দোষী সাব্যস্ত
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: জয়নগর, মুর্শিদাবাদের পর এবার রানাঘাট। নাবালিকাকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। তাও আবার আন্তঃরাষ্ট্রীয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুনানি হয় এই মামলার। মঙ্গলবার আদালত অভিযুক্ত সুকুমার বিশ্বাসকে দোষী সাব্যস্ত করে। আজ, বুধবার সাজা ঘোষণা। গত ১৪ জুন ও গত ২৮ আগস্ট ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুনানি হয়। রানাঘাটের ধর্ষণের ঘটনাটি ২০২০ সালের। তবে বিচার প্রক্রিয়া এবং সওয়াল জবাবে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নিগৃহীতার গোপন জবানবন্দি সহ একাধিক ঘটনা এই মামলায় অন্য মাত্রা পেয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় রানাঘাটের বাসিন্দা ওই নিগৃহীতার বয়স ছিল ১৪ বছর। প্রতিবেশী সুকুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার মা। অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত তাঁদের নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো ধারায় মামলা রুজু করে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিস। কিন্তু তিনজনের সাক্ষ্য দানের পরেই বিচার প্রক্রিয়ার গতি থেমে যায়। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।  জানা যায়, ওই সময় নির্যাতিত কিশোরী এবং তার বাবা-মায়ের খোঁজ পাচ্ছিলেন না তদন্তকারীরা। উচ্চ আদালত নির্যাতিতা ও তার বাবা-মাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তাঁরা বাংলাদেশে চলে গিয়েছেন। রানাঘাট জেলা পুলিসের এসপি এবং বাংলাদেশের পুলিসের যোগাযোগের মাধ্যমে নিগৃহীতা ও তার পরিবারকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মামলার শুনানিতে যোগ করা হয়। কিন্তু রানাঘাটের বাসিন্দা বাংলাদেশে দিনের পর দিন থাকছেন কীভাবে? তাঁদের নাগরিকত্বই বা কোন দেশের? মামলায় এই প্রশ্ন উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে সরকারি আইনজীবী অপূর্বকুমার ভদ্র বলেন, নির্যাতিতা যে দেশেরই হোক না কেন তার সঙ্গে যে অপরাধ হয়েছে তার বিচার পাইয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য ছিল। বিরলতম পদ্ধতিতে এই মামলার শুনানি হয়েছে এবং ন্যায়বিচার পেয়েছে ওই নির্যাতিতা। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী শুভেন্দু ঘোষ বলেন, নির্যাতিতার পরিবারের লোকজন বলেছেন, তাঁরা দুই দেশেই ভোট দেন। কীভাবে তাঁরা দুই দেশের নাগরিক সেটাও একটা বিষয়। তাছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে আমার মক্কেলকে। জমি নিয়ে একটি বিবাদের কারণে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্টেও একাধিক খামতি নজরে এসেছে। ৬ নম্বর ধারায় চার্জ গঠন হলেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ১০ নম্বর ধারায়। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ