Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধুরন্ধর কৌশলে পুকুর ভরাট, সঙ্কটে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা

ধুরন্ধর কৌশলে পুকুর ভরাট, সঙ্কটে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা
  • ৫ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: পুকুর দেখতে কেমন হয়? কয়েক বছর পর বর্ধমান শহরের নতুন প্রজন্ম এমন প্রশ্ন করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অথচ একসময় এই শহরে বহু পাড়াতেই বড় বড় জলাশয় ছিল। জলনিকাশি নিয়ে কোনও সমস্যা হতো না। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকত। সেই শহরে পুকুর ভরাটের প্রতিযোগিতা চলছে। তবে অত্যন্ত সুকৌশলে এই কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রথমে পুকুর পাড়ে আবর্জনা জমিয়ে রাখা হচ্ছে। ডাঁই হয়ে থাকা আবর্জনা কয়েকদিনের মধ্যে পুকুরে পড়ছে। একটু ভরাট হয়ে যাওয়ার পরই মাটি, পাথরের টুকরো দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।
Advertisement
এই প্রসঙ্গে উঠে আসছে লস্করদিঘির নাম। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও এখানকার জল ছিল পরিষ্কার। বাম জমানার শেষ থেকে ভরাটের কাজ শুরু হয়। জলাশয় ভরাট করে বাড়ি তৈরি হয়েছে। শাঁখারিপুকুর, নীলপুর, ভাতছালা সহ শহরের প্রায় সর্বত্র হয় জলাশয় ভরাট হয়েছে অথবা সাইজে ছোট হয়ে গিয়েছে। গোদা এলাকাতেও জলাশয় ভরাটের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এখন প্রোমোটারদের নজর পড়েছে শহরের শশঙ্কা বিলের দিকে। সেটি বারবার ভরাটের চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়দের বাধায় তারা পিছু হটেছে। কিন্তু জলাশয়টি কতদিন বাঁচিয়ে রাখা যাবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। 
কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন,  জলাশয় ভরাট করে বহুতলও হয়েছে। সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে কোনও দিন ভেঙে পড়তে পারে। পুরসভার নজরদারি বাড়ানো দরকার। শশঙ্কা বিল এখনও ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিল শহরের বাসিন্দাদের কাছে অন্য এক আবেগ। তা কখনই ভরাট করতে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। কয়েকটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ পাওয়ার পর খোদ জেলাশাসক আয়েশা রানি এ হস্তক্ষেপ করেন। ভরাট হওয়া অংশ থেকে মাটি তুলতে বাধ্য করান। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, সম্প্রতি আমাদের কাছে আট থেকে ১০টি পুকুর ভরাটের অভিযোগ এসেছিল। পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। থানাতেও অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, পুকুর ভরাটে রাশ না টানা গেলে আগামী দিনে শহরের বাসিন্দাদের খেসারত দিতে হবে। শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্ষার সময় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জলাশয় ভরাট করে আবাসন হলে তা কখনই টেকসই হতে পারে না বলে স্থানীয়দের দাবি। এক আধিকারিক বলেন, শুধু বধর্মান নয়, শহর লাগোয়া গ্রামীণ এলাকাগুলিতেও পুকুর ভরাট চলছে। 
জেলা প্রশাসন আগে কড়া পদক্ষেপ নিলে অনেক পুকুর বাঁচানো যেত। শহরের বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ এতটা অনিশ্চিয়তার মুখে পড়ত না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের কাছে পুকুর শব্দটা নতুন প্রজন্মের কাছে অপরিচিত হয়ে উঠবে বলে অনেকেই মনে করছেন।  (শেষ)  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ