Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধর্মঘট করার জের, দমনপীড়নের রাস্তায় ইস্কো, দুই শ্রমিককে দু’হাজার কিমি দূরে বদলি, সাসপেন্ড

ধর্মঘট করার জের, দমনপীড়নের রাস্তায় ইস্কো, দুই শ্রমিককে দু’হাজার কিমি দূরে বদলি, সাসপেন্ড
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ধর্মঘটে শামিল হওয়ার ‘অপরাধে’ দুই শ্রমিককে দু’হাজার কিলোমিটার দূরে বদলি করার অভিযোগ উঠল ইস্কো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। চারজন শ্রমিককে সাসপেন্ড ও ২৬ জন শ্রমিককে ওয়ার্নিং লেটার ইস্যু করা হয়েছে বলেও শ্রমিক মহলের দাবি। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপে ক্ষোভে ফুঁসছেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার পাঁচটি শ্রমিক সংগঠন একযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করে কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, এই শাস্তি প্রত্যাহার না করা হলে লাগাতার ধর্মঘট করে কারখানা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ধর্মঘটে শামিল হওয়ার জন্য কারখানার ভিতরে প্রতিবন্ধী শ্রমিককে মারধর পর্যন্ত করিয়েছেন শীর্ষ আধিকারিকরা। কারখানার ভিতরে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলেও তাঁরা অভিযোগ তোলেন। ইস্কোয় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। তারমাঝে কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে অশনি সংকেত দেখছে শিল্পাঞ্চল। 
Advertisement
গত ২৮অক্টোবর সেইলের সব কারখানায় ধর্মঘটের ডাক দেয় পাঁচটি শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি, সিটু, এআইটিইউসি, এইচএমএস ও বিএমএস। ধর্মঘটের দিন ইস্কোর কারখানার বাইরে উত্তেজনা ছড়ায়। কারখানার গেটের সামনে পিকেটিং করে ধর্মঘটে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। উল্টোদিকে ইডি, ডিরেক্টর ইনচার্জের মতো সেইলের শীর্ষ আধিকারিকরা কারখানার গেটে এসে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে আহ্বান জানাতে থাকেন। ধর্মঘটে কোনও প্রভাব পড়েনি বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল। উল্টোদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি ছিল, কর্তৃপক্ষ ধর্মঘটের দিন শ্রমিক হাজিরার পরিসংখ্যান ও উৎপাদনের পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনুক। ধর্মঘটের পরও সেইল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবি নিয়ে নমনীয় অবস্থান দেখায়নি। যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছিল শ্রমিকদের মধ্যে।
শিল্পাঞ্চলে সেইলের অধীনে চারটি কারখানা রয়েছে। দুর্গাপুরের ডিএসপি, এএসপি, বার্নপুরে ইস্কো এবং কুলটিতে সেইল গ্রোথ ওয়ার্কস। শ্রমিকদের অসন্তোষ এতটাই ছিল যে সঙ্ঘের শ্রমিক সংগঠন বিএমএসও রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাদের নেতৃত্বও পুরোমাত্রায় ধর্মঘটে শামিল হয়েছিল। এই অবস্থায় শ্রমিকদের ক্ষোভে ঘি ঢালল ইস্কো। জানা গিয়েছে, ইস্কোর শ্রমিক সোনু সিং, রোশন কুমারকে তামিলনাড়ুর সালেম স্টিল প্ল্যান্টে বদলির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। পরিবার নিয়ে দুই শ্রমিক বার্নপুরে থাকেন। দু’হাজার কিলোমিটার দূরে বদলি হওয়ায় অথৈ জলে পড়েছে পরিবার। একইভাবে চার শ্রমিককে বিনা অপরাধে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনগুলির। 
মঙ্গলবার পাঁচটি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন বার্নপুরের বিএমএস অফিসে সাংবাদিক সম্মেলন করে। আইএনটিইউসি নেতা হরজিৎ সিং বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই এর বিরুদ্ধে দিল্লিতে চিফ লেবার কমিশনার ও ইস্কোর ডিরেক্টর ইনচার্জকে লিখিত অভিযোগ করেছি। এই শাস্তি না তোলা হলে ধারাবাহিক ধর্মঘট করে কারখানা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। সিটু নেতা সৌরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, কারখানার এই উন্নয়নের পিছনে শ্রমিকদের অবদানই সবচেয়ে বেশি। বার্নপুরের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস যেন কর্তৃপক্ষ ভুলে না যায়। বিএমএস নেতা সঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শ্রমিকদের প্রতি নিপীড়ন আমরা মেনে নেব না। ইস্কোর জনসংযোগ আধিকারিক ভাস্কর কুমার বলেন, কারখানার নিয়ম ভাঙার জন্যই কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। কারখানার কোনও শ্রমিককে মারধর করা হলে নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ জানানো হোক। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে।
সম্পর্কিত সংবাদ