Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধার শোধ করতে না পেরে বিপাকে, ‘ছিনতাইয়ের’ গল্প ফেঁদে থানায় অভিযোগ, বানারহাটে ধৃত ২

ধার শোধ করতে না পেরে বিপাকে, ‘ছিনতাইয়ের’ গল্প ফেঁদে থানায় অভিযোগ, বানারহাটে ধৃত ২
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, বানারহাট: বাজারে প্রচুর ধার রয়েছে। সেই ধারের টাকা শোধ করতে না পেরে ‘ছিনতাইয়ের’ গল্প ফেঁদে বানারহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে এক ব্যক্তি। একাজের জন্য জলপাইগুড়ি থেকে এক বন্ধুকে টাকার বিনিময়ে ‘ভাড়া’ করে ওই ব্যক্তি। যদিও এতকিছুর পরও শেষরক্ষা হল না। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেই রহস্যভেদ করল পুলিস। গোটাটাই যে সাজানো, সেটা বুঝে যেতেই অভিযোগকারীকে জেরা করা হয়। আর তাতেই গড়গড়িয়ে সবটা স্বীকার করে নেয়। থানায় মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করায় সমীর সরকার নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। একইসঙ্গে যাকে ‘দুষ্কৃতী’ সাজিয়ে ঘটনার প্লট তৈরি করা হয়েছিল, বুধবার সন্ধ্যায় সেই রাজু মহম্মদকেও জলপাইগুড়ি শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত।
Advertisement
পুলিস জানিয়েছে, সমীর সরকারের আদি বাড়ি জলপাইগুড়ির চৌধুরীপাড়ায়। বর্তমানে বানারহাটের শান্তিপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে। বানারহাটে তার একটি দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার সমীর বানারহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানায়, ওইদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বাড়িতে বসে হিসেবপত্র করার সময় এক দুষ্কৃতী অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে চড়াও হয়। তারপর সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ‘ছিনতাই’ করে পালায়।
সমীরের দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিস। খতিয়ে দেখা হয় ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। তাতে দেখা যায়, প্রথমে সমীর দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে টেবিলে বসে কাজ করতে থাকে। দরজাটি অর্ধেক খোলা ছিল। 
কয়েক মুহূর্ত পর মাথায় হেলমেট ও পরনে জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে ঘরে ঢোকে। সমীর চেয়ারেই বসেছিল। ওই ব্যক্তি সমীরের কাছে যায়। সামান্য ধস্তাধস্তি হয়। এতেই সন্দেহ হয় পুলিসের। গোটা ঘটনাটি সাজানো মনে হয় তাদের। কারণ, সমীর থানায় দায়ের করা অভিযোগে অস্ত্র নিয়ে হামলার কথা বললেও ক্যামেরার ফুটেজে তেমন কিছু দেখতে পায়নি পুলিস। তাছাড়া টাকা হাতানোর বিষয়টিও ধরা পড়েনি ক্যামেরায়।
ঘটনার সময় সমীরের ভাড়া বাড়ির সামনে একটি গাড়িও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ক্যামেরার ফুটেজে। সেইমতো তদন্ত শুরু করে এদিন সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি শহর থেকে রাজু মহম্মদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। সে জানায়, আদৌও কোনও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। সবটাই সাজানো। সমীর তাকে টাকার টোপ দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী ‘ছিনতাইকারী’ সেজে গিয়েছিল সে। এরপরই  অভিযোগকারীকে জেরা করে পুলিস। এতেই গড়গড়িয়ে সবটা স্বীকার করে নেয় সমীর। সবটাই যে ‘নাটক’ তা জানায়। পুলিসি জেরায় ওই ব্যক্তি স্বীকার করেছে, বাজারে মোটা অঙ্কের টাকা ধার হয়ে গিয়েছিল তার। শোধ করতে না পারায় টাকা ছিনতাইয়ের গল্প সাজায়। এজন্য জলপাইগুড়ি থেকে টাকার বিনিময়ে তার এক বন্ধুকে ‘ভাড়া’ করে আনে। তার বাড়িতে কোনও ছিনতাইয়ের ঘটনাই ঘটেনি।
সম্পর্কিত সংবাদ