Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধানচাষিদের সহায়কমূল্য থেকে কম দাম দেওয়া যাবে না, নির্দেশ জেলাশাসকের

ধানচাষিদের সহায়কমূল্য থেকে কম দাম দেওয়া যাবে না, নির্দেশ জেলাশাসকের
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নির্ধারিত সহায়কমূল্য থেকে ধানচাষিদের এক টাকাও কম দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার জেলাশাসক আয়েশা রানি এ খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিকদের বৈঠকে এমনই নির্দেশ দেন। রাইসমিল মালিকদের সংগঠন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিল। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার, খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ গুফরানা ইয়াসমিন সহ অন্য জনপ্রতিনিধিরাও বৈঠকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
Advertisement
জেলাশাসক বলেন, আমাদের জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০হাজার কৃষক ধান বিক্রি করেছেন। কোথাও তেমন সমস্যা নেই। ধান কেনার প্রক্রিয়া আগামী দিনে আরও ভালো করা হবে।
সভাধিপতি বলেন, সমস্ত রাইস মিলের গেটের সামনে ভিডিও রেকর্ডিং করার প্রস্তাব দিয়েছি। সেটা করা হলে অনিয়ম অনেকটাই বন্ধ হবে। কোন রাইসমিলে কত ট্রাক বা ট্রাক্টর ধান ঢুকছে, সেটা স্পষ্ট হবে। অতীতে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছিল। কয়েকটি রাইসমিল খাতাকলমে ধান কিনেছে বলে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ভিডিও ক্যামেরা থাকলে রাইসমিল কর্তৃপক্ষও নিজেদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি সবার সামনে তুলে ধরতে পারবে। বেঙ্গল রাইসমিল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে আব্দুল মালেক বলেন, ধান সরকার কেনে। রাইসমিলের সামনে ক্যামেরা বসালে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ধান তারা কীভাবে কিনবে তা সরকারের বিষয়। 
বৈঠকে ভাতার ব্লক নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ করা হয়েছে। জেলাশাসক তা দেখার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলাশাসক বলেন, ধান বিক্রি করতে কোথাও সমস্যা হলে চাষিরা দপ্তরে জানাবেন। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হবে। চাষিদের ধানের নির্ধারিত দাম দেওয়া হবে। কোথাও দাম কম দেওয়া হলে পদক্ষেপ করা হবে।
চাষিরা জানান, এবছর এখনও পর্যন্ত তেমন সমস্যা হয়নি। সব জায়গাতেই কৃষকরা ভালোভাবে ধান বিক্রি করতে পারছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দালালরাজ বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। জেলার আধিকারিকরা ক্যাম্পে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলছেন।
জেলাশাসক বৃহস্পতিবার মেমারি-১ ব্লকে যান। সেখানে ক্যাম্পের কর্মী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে ধান কিনছেন। জেলাশাসক তাঁদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
চাষিদের দাবি, ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। প্রতিটি পঞ্চায়েতে একাধিক ক্যাম্প থাকলে চাষিদের পক্ষে ধান বিক্রি করা সহজ হবে। দূরে সিপিসি’তে ধান বিক্রি করতে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। সেকারণে তাঁরা ফড়েদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। ধান কেনার ‘দুয়ারে ক্যাম্প’ করা হলে আরও বেশি চাষি সরকারকে ধান বিক্রি করবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ