নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মহাকুম্ভে স্নান করতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় গড়বেতার একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই পরিবারের এক সদস্য মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল। রবিবার বিকেলে তারও মৃত্যু হল। মৃতের নাম সুদীপ সাহা(১৪)। বাড়ি গড়বেতা থানার নলপা গ্রামে। সে স্থানীয় পানিকোটর হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এই খবর আসতেই গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকে সুদীপ ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের রাজগঞ্জ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি ছিল। তার পরিবারের বাকি সদস্যদের মৃতদেহ শনিবার রাত ২টো নাগাদ নলপা গ্রামে এসে পৌঁছয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য থেকে গ্রামবাসীরা। স্থানীয় গড়ঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নলপা গ্রামের বাসিন্দা বছর ৪২-এর প্রণব সাহা সপ্তাহখানেক আগেই মহাকুম্ভে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ছেলে সুদীপের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তাঁরা রওনা দেবেন বলে ঠিক করেছিলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শুক্রবার তাঁরা প্রয়াগরাজের উদ্দেশে রওনা দেন। প্রণববাবুর সঙ্গে ছেলে সুদীপ ছাড়াও মেয়ে অন্বেষা সাহা(৪) ও স্ত্রী শ্যামলী সাহা(৩৩) ছিলেন। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, প্রথমে ওরা সপরিবারে শুক্রবার দুপুরে বাইকে চেপে আরামবাগের গোঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর সেখানে থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে একটি আট সিটের গাড়িতে চেপে যাত্রা শুরু করেছিল। শনিবার ভোররাতে ধানবাদের কাছে তাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গোটা গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় শনিবারই ছ’জনের মৃত্যু হয়। স্ত্রী, কন্যা সহ প্রণববাবুর মৃত্যু হলেও ছেলে সুদীপ বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। সুদীপের জেঠু প্রহ্লাদ সাহা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বলেন, আমরা কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। একইসঙ্গে চারজনকে হারালাম। একটা পরিবার শেষ হয়ে গেল। এভাবে ওদের মৃত্যু হবে ভাবতেই পারছি না।



