Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধান নিতে গড়িমসি মিল মালিকদের, ফসল আগলে রাত পাহারা  

ধান নিতে গড়িমসি মিল মালিকদের, ফসল আগলে রাত পাহারা  
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে বিপুল আগ্রহ রয়েছে শিল্পাঞ্চলের চাষিদের মধ্যে। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ধান সংগ্রহ করার জন্য স্বনির্ভর দল থেকে এফপিও, সমাবায় সমিতিগুলিকে ময়দানে নামিয়েছে প্রশাসন। প্রথম থেকে ব্যাপকভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও সময় যত গড়িয়েছে রা‌ইসমিল মালিকদের গড়িমসিতে বহু জায়গাতেই সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা। সরকারের নির্ধারিত জায়গায় চাষিরা ধান আনলেও ধান সংগ্রহের জন্য আসছে না রাইসমিলের গাড়ি। বাধ্য হয়ে প্রবল শীতে খোলা মাঠেই ধান পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। ধান বিক্রি করা নিয়ে হয়রানি হওয়ায় চাষিদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
Advertisement
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার জেলায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। ধান কাটা প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। শিল্পাঞ্চল ও খনি লাগোয়া পশ্চিম বর্ধমান ধান উৎপাদনে পিছনের সারিতেই থাকে। সরকার থেকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও কম দেওয়া হয় জেলায়। গতবার যা লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল তার থেকে তা পূরণ করতে পারেনি প্রশাসন। তাও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জেলায় ধান সংগ্রহের টার্গেট বাড়িয়ে করা হয় ৭২ হাজার মেট্রিক টন। যা পূরণ করতে প্রথম থেকেই তৎপর হয় জেলা প্রশাসন। মোবাইল সিপিসি, ফার্মার প্রডিউসার অরগানাইজেশন(এফপিও), সমবায় সমিতি মিলিয়ে মোট ৩৩টি জায়গা থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা করা হয়। বিপুল ধান উৎপাদন হওয়ায় ও সরকার ধানের যথেষ্ট দাম দেওয়ায় চাষিরা ধান বিক্রি করতে আগ্রহ দেখান। সরকারি পোর্টালে তাঁরা রেজিস্ট্রেশন করিয়ে ধান বিক্রির সিডিউল বুক করেন। সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ধান নিয়ে হাজির হচ্ছেন চাষিরা। যেখানে এফপিওগুলিও সময় মতো হাজির হচ্ছে। কিন্তু দেখা মিলছে না রাইস মিলের গাড়ির। যাঁরা চাষিদের ধান সংগ্রহ করে মিলে নিয়ে যাবে। জামুড়িয়া থেকে পাণ্ডবেশ্বর সহ বিভিন্ন জায়গায় এই ঘটনা ঘটছে। যেখানে ২৫ জন চাষির ধান সংগ্রহ করার কথা সেখান পাঁচজন চাষির ধান সংগ্রহ করেই মিল মালিকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ, শেষ দু’দিন অনেক মিল মালিক বলেছেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই ধান সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। 
জামুড়িয়া এফপিও’র সিইও সন্দীপ গোপ বলেন, মঙ্গলবার চাকদোলায় ধান সংগ্রহের কথা ছিল। সেই মতো ছ’জন চাষি ১৫০ কুইন্টাল ধান নিয়ে চলে এসেছে। এখন বলা হচ্ছে মিল মালিকের ব্যাঙ্ক গ্যারেন্টি শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই গাড়ি আসবে না। জামুড়িয়ার হিজলগড়াতেও এই ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার একই সমস্যা হয়েছে পাণ্ডবেশ্বরের মহাল এলাকাতেও। সেখানেও ফাঁকা মাঠে ধান নিয়ে এসে আক্ষেপ করছেন চাষিরা। 
পশ্চিম বর্ধমান রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা মধুসূদন রায় বলেন, পাঁচটি রাইসমিলকে দিনে ৩৩ জায়গা থেকে ধান সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাই কোথাও কোথাও সমস্যা হচ্ছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ