Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধান কেনায় এগিয়ে পূর্ব বর্ধমান

ধান কেনায় এগিয়ে পূর্ব বর্ধমান
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার ক্ষেত্রে রাজ্যে সবার আগে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। অন্যান্য জেলাগুলি অনেক পিছনে রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৮২হাজার ২২২জন কৃষকের কাছ থেকে খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর তিন লক্ষ ৫৩হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন ধান কিনেছে। ধান কেনার ক্ষেত্রে ফড়েরা যাতে ফায়দা তুলতে না পারে তারজন্য প্রশাসন প্রথম থেকেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ভাতার এবং মঙ্গলকোট ব্লকে ধান কেনা নিয়ে চাষিরা কিছু অভিযোগ করেছিলেন। খাদের নামে অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছিল। এমন অভিযোগ আসার পর জেলাশাসক আয়েশা রানি এ ওই দুই ব্লকে পরিদর্শনে যান। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে পদক্ষেপ নেন। চাষিদের কোনওভাবেই ঠকানো যাবে না বলে তিনি সাফ বার্তা দেন। 
Advertisement
জেলাশাসক বলেন, চাষিরা ভালোভাবেই ধান বিক্রি করতে পারছেন। কোনও অভিযোগ থাকলে চাষিরা সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন। 
খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে ৯৩হাজার ২৯৪জন কৃষকের কাছ থেকে দু’লক্ষ ৯২হাজার ৬০৭মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে হুগলি ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে মালদহ জেলা। পিছনের সারিতে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪পরগনা, হাওড়া, অলিপুরদুয়ার। বাঁকুড়া জেলায় ৩৮হাজার ১০০, নদীয়ায় ৩৫হাজার ৬৩৩, পুরুলিয়ায় ২১হাজার ৯৬জন কৃষক ধান বিক্রি করেছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধান কেনায় অনিয়ম বন্ধ করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরিচয়পত্র ছাড়া চাষিদের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে না। অন্যান্য বছর ফড়েরা বিভিন্ন ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করত বলে অভিযোগ উঠেছিল। এবার প্রথম থেকেই প্রতিটি জেলাকে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।  এছাড়া ধানে আর্দ্রতা রয়েছে বলে চাষিদের হয়রান করা হয়। এবার প্রতিটি ক্রয়কেন্দ্র আর্দ্রতা দেখার মেশিন বসানো হয়েছে। ধানে কতটা আর্দ্রতা থাকবে তা বলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে তিনজনের কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রতিটি ক্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন। তাঁরা চাষিদের সঙ্গেও কথা বলছেন। তাঁদেরও চাষিরা অভিযোগ জানাতে পারবেন। চাষিদের একাংশের দাবি, এবার ফড়েরা সেভাবে সহায়কমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছে না। যেসব চাষির অল্প পরিমাণ জমি রয়েছে তাঁদের তারা ব্যবহার করছে। তাঁদের অ্যাকাউন্ট নম্বরে টাকা লেনদেন হচ্ছে। ওই কৃষকদের অল্প কিছু টাকা কমিশন দিয়ে তারা এই চক্র চালাচ্ছে। তবে সরাসরি তারা ক্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে না। সেই কৃষকরাই ক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ধান বিক্রি করছেন। তাই ফড়েদের চিহ্নিত করতে আধিকারিকরা সমস্যায় পড়ছেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ