Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধান বিক্রি করতে আসা চাষিদের হয়রানি রুখতে বৈঠক প্রশাসনের

ধান বিক্রি করতে আসা চাষিদের হয়রানি রুখতে বৈঠক প্রশাসনের
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: বীরভূমেরজুড়ে খরিফ ধান কেনার কাজ চলছে জোরকদমে। তবে ধান কেনা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে মাঝেমধ্যে। সেই কারণে জেলার বিধায়কদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করল জেলা প্রশাসন। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ বৈঠকটি হয় সিউড়ি প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে সিউড়ির তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, রামপুরহাটের বিধায়ক তথা ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা এবং জেলাশাসক বিধান রায় সহ খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও রাইস মিল সংগঠনের তরফে একজন সদস্য সঞ্জীব মজুমদার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ভার্চুয়ালি জেলার অন্যান্য প্রান্তের বিধায়করাও এই বৈঠকে অংশ নেন। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধান কেনা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা এবং চাষিদের নানা দাবিদাওয়া প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন বিধায়করা। বিধায়করা জানান, বিভিন্ন ধান্যক্রয় কেন্দ্রে চাষিদের ধান নিয়ে গিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। তাছাড়া ধানের ধলতা কাটার অভিযোগও আসছে একাধিক জায়গা থেকে। সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন বিধায়করা। পাশাপাশি ধান কেনার পদ্ধতি এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে বিধায়কদের সামনে তথ্য তুলে ধরেন জেলাশাসক। 
এদিনের বৈঠক শেষে তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, জেলার চাষিরা যাতে সুষ্ঠুভাবে ধান বিক্রয় করতে পারেন, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। চাষিদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া আমরা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। আমরা চাই ধান বিক্রি করতে এসে চাষিদের যেন কোনও সমস্যায় না পড়তে হয়। 
বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, চাষিদের বিক্রি করা ধান থেকে ধলতা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে চাষিরা ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। অথচ সেই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। আমরা সেই বিষয়টি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরলাম এবং ধান বিক্রি করে চাষিদের যেন লোকসানের মুখে না পড়তে হয় সেই বিষয়টি দেখার আবেদন জানালাম। পাশাপাশি ধান কেনার জন্য আরও বেশি রাইস মিলকে যাতে অনুমোদন দেওয়া যায় তাও দেখতে আবেদন জানিয়েছি। 
বৈঠক প্রসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, জেলাজুড়ে বিভিন্ন ধান্যক্রয় কেন্দ্র থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ধান কেনার কাজ চলছে। কোথাও কোনও অশান্তির খবর পাওয়া যায়নি। আমরা বিধায়কদের থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব পেলাম। বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও যারা গিয়েছে, বীরভূম জেলায় এবছর খরিফ ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে চার লক্ষ আট হাজার মেট্রিক টন। এ যাবৎ কেনা হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন। ২৪ হাজার ৬১৩ জন কৃষক এখনও পর্যন্ত ধান বিক্রি করেছেন। এখনও অবধি জেলার ৪০টি রাইস মিল এই ধান কেনার দায়িত্বে রয়েছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ