নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: জেলাশাসককে কাছে পেয়ে ধলতা নেওয়ার অভিযোগ করলেন কৃষকরা। শোকজ করা হল হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডীর কৃষি মান্ডির পার্চেজ অফিসারকে। শুরু হয়েছে তাঁকে বদলির প্রক্রিয়া। মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বলেন, ধলতা একটাও চলবে না। অ্যাভারেজ ময়শ্চার কোয়ালিটি দেখে সরকার সবসময় টাকা দেয়। ধান কেনার সময় কোনও রাইস মিল কর্তৃপক্ষ কৃষকদের কাছে ধলতা চাইলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু করেছে সরকার। কোথাও সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রাইস মিল আবার কোথাও বিভিন্ন গ্রুপ বা সোসাইটি কৃষকদের থেকে ধান কিনছে। এদিকে ধান কেনা শুরু হতেই কুইন্টাল প্রতি তিন থেকে পাঁচ কেজি করে ধলতা নেওয়ার প্রচুর অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। সরেজমিনে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রায় প্রতিদিনই আধিকারিকরা ধান ক্রয় কেন্দ্রে আচমকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। জেলাশাসক নিজেও এই পরিদর্শন করছেন। ৪ ডিসেম্বর গাজোলের দেওতলা ফুটবল ময়দান ধান ক্রয় কেন্দ্রে গেলে কৃষকেরা সরাসরি জেলাশাসককে ধলতা নেওয়ার অভিযোগ করেন। কৃষকদের মুখ থেকে ধলতা নেওয়ার অভিযোগ শোনামাত্রই ধান ক্রয় কেন্দ্রের পিও (পার্চেজ অফিসার) এবং সংশ্লিষ্ট রাইস মিল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন জেলাশাসক। এরপর ১৪ ডিসেম্বর হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী কৃষি মান্ডিতে ফের আচমকা পরিদর্শনে যান জেলাশাসক। সেখানেও তাঁকে কাছে পেয়ে ধলতা নেওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকরা। এরপরেই ওই ধান ক্রয় কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত রাইস মিল কর্তৃপক্ষ এবং পার্চেজ অফিসারকে কড়া ভাষায় ধমক দেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে রাইস মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কৃষকরা ধলতা নেওয়া অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন সেই মিলের চুক্তি সাত দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। শুধু তাই নয় বুলবুলচণ্ডী কৃষি মান্ডির দায়িত্বপ্রাপ্ত পার্চেজ অফিসারকেও শোকজ করা হয়েছে। এমনকী তাঁকে বদলির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মালদহ জেলা খাদ্য ও সরবরাহ নিয়ামক শাশ্বত সুন্দর দাস বলেন, পিও কে শোকজের পাশাপাশি তাঁর বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।



