Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ধুলিয়ানে স্কুলছাত্রকে চোর সন্দেহে মারধর, এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি

ধুলিয়ানে স্কুলছাত্রকে চোর সন্দেহে মারধর, এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: একাদশ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে চোর সন্দেহে বেধড়ক মারধর করায় উত্তেজনা ছড়াল সামশেরগঞ্জের শুলিতলায়। ওই ছাত্র ধুলিয়ান কেকেএসকে স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ছাত্র বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার রাতে স্থানীয় কাঞ্চনতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসকদলের উপপ্রধান ও তাঁর দলবল ওই ছাত্রকে মারধর করেছেন বলে পরিবারের দাবি। 
Advertisement
অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওই উপপ্রধানের পাল্টা দাবি, স্থানীয় এক সমাজবিরোধীর নির্দেশে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা চলছে। এলাকার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে ব্যাপক বোমাবাজি করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষই ব্যাপক বোমাবাজি করে। খবর পেয়ে গভীর রাতে সামশেরগঞ্জ থানার বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। যদিও দু’পক্ষই বোমাবাজির কথা অস্বীকার করেছে। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, সামান্য বিষয় নিয়ে ঝামেলা। এলাকায় পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওইদিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই ছাত্র গোবিন্দপুরের দিদির বাড়ি থেকে গ্রামে ফিরছিল। শুলিতলার পূর্বপাড়া দিয়ে যাওয়ার সময় চোর সন্দেহে ওই ছাত্রকে ধাওয়া করে এলাকাবাসী। প্রাণ ভয়ে ওই ছাত্র ছুটতে থাকে। তখনই স্থানীয় কাঞ্চনতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সামিরুল হক তাকে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে ওই ছাত্রকে গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেন। এরপর গ্রামবাসীরাও ওই ছাত্রকে আটকে রেখে আবার বেধড়ক মারধর করে। এই ছাত্র ফোনে তার কাকাকে বিষয়টি জানায়। ভাইপোকে আটকে রাখার খবর পেয়ে ছাত্রের কাকা লোকজন নিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। মারধরে জখম ভাইপোকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে অন্ধকার করে দেওয়া হয়। তারপরই শুরু হয় দু’পক্ষের ব্যাপক বোমাবাজি। পরে পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওই ছাত্র বলে, দিদির বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। গ্রামবাসীরা আমাকে চোর চোর বলে তাড়া করে। ভয়ে পালাতে গেলে উপপ্রধান আমাকে ধরে প্রথম মারধর করে। পরে গ্রামবাসীরাও মারে। ফোন করে কাকাকে খবর দিই। মারধরে বুকে ব্যথা ও মাথায় যন্ত্রণা হওয়ায় কাকা আমাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। উপপ্রধান সামিরুল হক বলেন, রাতে চোর চোর শব্দে বাইরে বেরিয়ে দেখি বাগান দিয়ে দু'জন দৌড়ে আসছে। তাদের আটকে প্রশ্ন করলে ওরা ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারছিল না। ওই ছাত্রের পরিবারের লোকজনকে ফোন করে বোমা নিয়ে আসার হুমকি দিলে ওকে দু-এক চড় মারা হয়। ছেলেটি আসলে ছাত্র নয়। সে আসলে এক সমাজবিরোধীর আনোয়ার শেখের দলের লোক। সে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আনোয়ার শেখ বলেন, ফোনে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ভাইপোকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে। আমি শুধু বলেছিলাম ও তো চোর নয়, ও একজন ছাত্র। সে কিছু অন্যায় করে থাকলে পুলিস শাস্তি দেবে। একথা বলতে যাওয়ায় বোমাবাজি শুরু করে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এখন শুনছি আমিও সমাজবিরোধী। 
সম্পর্কিত সংবাদ