ঢাকা: বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের পর এবার ঢাকায় ‘অমর একুশে’ বইমেলায় তাণ্ডব চালাল মৌলবাদীরা। তসলিমা নাসরিনের বই বিক্রি করায় ভাঙচুর করা হল একটি স্টল। তসলিমার বই বিক্রি করা হলে প্রকাশককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল মৌলবাদীরা। কিন্তু তারপরেও প্রকাশক বই বিক্রি বন্ধ করতে রাজি হননি। তারপরেই স্টলে হামলা চালিয়ে প্রকাশককে মারধর করা হল। সোমবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার পর স্টল বন্ধ করে দেয় পুলিস। মঙ্গলবারও সেটি খোলেনি। তাণ্ডবের ভিডিও পোস্ট করে ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন স্বয়ং তসলিমাও। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আগের সরকারগুলো যত না স্বৈরাচারী ছিল, এই ইউনুস সরকার তাদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি স্বৈরাচারী। মানবিক গল্পগুলো নিষিদ্ধ করতে মন চায় কেন আপনাদের?’এভাবে হামলা চালিয়ে আদতে মতপ্রকাশের অধিকারকেই বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে বিবৃতি দিয়েছেন তিনশোর বেশি বাংলাদেশি শিল্পী, লেখক, মানবাধিকার কর্মী। চাপে পড়ে ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতি জারি করেছে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের দপ্তরও। হামলার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেলার আয়োজক ‘বাংলা অ্যাকাডেমি’। সম্প্রতি, একটি ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশ করে ‘সব্যসাচী’ নামে প্রকাশনা সংস্থা। অভিনেত্রী-লেখিকা সানজানা মেহেরান ও তাঁর স্বামী শতাব্দী ভব এই সংস্থাটি চালান। বই প্রকাশের কথা জানাজানি হতেই মৌলবাদীরা সমাজমাধ্যমে হুমকি দিতে শুরু করে। সোমবার সন্ধ্যায় ‘তৌহিদি জনতা’র নামে একদল লোক এসে ‘সব্যসাচী’র স্টলে হামলা চালায়। সানজানা স্টলে না থাকলেও শতাব্দীকে ঘিরে ধরে হামলাকারীরা। প্রাণে বাঁচতে আপাতত গোপন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন সানজানা ও শতাব্দী। এদিকে, বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।



