মইদুল ইসলাম: ‘শোলে’ রিলিজের পর ৫ বছর অতিক্রান্ত। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো পরের পর ব্লকব্লাস্টার আছড়ে পড়ছে বাণিজ্য নগরীতে। লোকের মুখে ডন, আজাদ কিংবা শালিমার। এরইমধ্যে ১৯৮০’র রোভার্স কাপ ঘিরে তুমুল উন্মাদনা। উপচে পড়া ভিড়ে কুপারেজ স্টেডিয়ামের কাঠের গ্যালারি মচমচ করে। তখন শচীন কত্তা প্রয়াত। পুত্র পঞ্চম এককাঠি উপরে। ইস্ট বেঙ্গল ম্যাচে পানের ডিবে হাতে আর ডি’র হাজিরা মাস্ট। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের খেলা চট করে মিস করতেন না দিলীপ কুমার। কলকাতার তিন প্রধানকে ঘিরে ফেটে পড়ছে মুম্বই। তেমনই এক সকালে মহমেডানের টিম হোটেলে রীতিমতো হইচই। কী ব্যাপার? বলিউডের এক প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার মহমেডান স্পোর্টিংয়ের অন্ধ সমর্থক। সুপারস্টার ধর্মেন্দ্রর ভাই অজিত দেওল তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মাঝেমধ্যে কুপারেজেও দেখা যেত অজিতকে। যাই হোক, আমার নামে হাঁকডাক শুনে নেমে আসি লাউঞ্জে। লাঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্বয়ং ধর্মেন্দ্র। গাড়িও পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। তারপর? বাকিটা স্রেফ স্বপ্নের মতো।
জুহুর বাংলো প্রায় রাজপ্রাসাদ। বাইরে দোলনায় হেলান দিয়ে এক দীর্ঘদেহী। হাতে দুধের গ্লাস। তিনি কিষান সিং দেওল। ধর্মেন্দ্রজি’র গর্বিত পিতা পছন্দ করেন কবাডি। খানিক খোশগল্প, সৌজন্য বিনিময়ের পর অন্দরমহলের ডাক। দূরত্বটুকু যেন হাওয়ায় ভেসে যাওয়া। ওই তো! হাসিমুখে ওয়েলকাম জানাচ্ছেন মেগাস্টার। কপালে এলানো চুল আধভেজা। সদ্য স্নান করে পরিপাটি। দুধসাদা ড্রেসিং গাউনে সাক্ষাৎ রাজপুত্র। মৃদু হাসিতে মুক্তোর ঝলক। হাত মিলিয়ে এক্কেবারে বেড রুমে নিয়ে গেলেন ধরমজি। শচীন কত্তার প্রসঙ্গে অসম্ভব শ্রদ্ধাশীল। কিংবদন্তি এস ডি ইস্ট বেঙ্গলের অন্ধ অনুরাগী। মুচকি হেসে শোলের বীরু বলেছিলেন, ‘ফুটবল নিয়ে এমন পাগলামিকে সেলাম ঠুকতেই হয়।’ কথার মাঝেই ওঁর ব্যক্তিগত ম্যানেজার উপস্থিত। স্টুডিও থেকে ফোন এসেছে। আসলে ‘রাজিয়া সুলতানা’র শ্যুটিং তখন তুঙ্গে। নির্দিষ্ট সময়ে স্টুডিওয় পৌঁছে গিয়েছেন হেমা মালিনী। শেষ পর্যন্ত ফোন করে কলটাইম পিছিয়ে দিয়েছিলেন সুদর্শন সুপারস্টার। ফটোগ্রাফারকে ডেকে পাশে বসিয়ে ছবিও তুলিয়ে রাখলেন। এই সৌজন্য, পারস্পরিক সম্মান বড় মনের পরিচয়। নায়কের প্রয়াণে মনের কোণে পুরোনো স্মৃতির আনাগোনা। অনুপমা সিনেমার চিরকালের সেই গান কানে বাজে। ‘ইয়া দিল কি শুনো দুনিয়া ওয়ালো, ইয়া মুঝকো আভি চুপ রহেনে দো।’ রুপোলি পর্দা ছেড়ে এবার সত্যিই স্তব্ধ হলেন কিংবদন্তি।