Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তারকেশ্বরে শ্যামাপ্রসাদ, চিত্তরঞ্জন, নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত ধর্মশালা ধ্বংস করে প্রোমোটারি

তারকেশ্বরে ঐতিহাসিক ধর্মশালা ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্য রক্ষায় তদন্ত হওয়া উচিত। বিস্তারিত পড়ুন।

তারকেশ্বরে শ্যামাপ্রসাদ, চিত্তরঞ্জন, নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত ধর্মশালা ধ্বংস করে প্রোমোটারি
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: আগামী শনিবার ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে। হুগলি জেলার তারকেশ্বরে এই ঐতিহাসিক দিনটি পালনের জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। যথাযোগ্য মর্যাদায় এই দিবস উদযাপনের জন্য ওইদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন এই শহরে। বাংলা ভাগের প্রশ্নে হিন্দুরা যাতে ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকতে পারেন, সেকারণে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালে আলাদা পশ্চিমবঙ্গ গঠনের দাবি উঠেছিল এই তারকেশ্বর থেকে। ওই বছরের এপ্রিল মাসে বঙ্গীয় হিন্দু মহাসভার তিনদিনের অধিবেশন থেকে এই দাবি উঠেছিল। সেই সময় জাতিদাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষ ছুটে এসেছিলেন হিন্দু মহাসভার কাছে। তারকেশ্বরের সেই ভূমিকার কথা বহু মানুষই জানেন না।

Advertisement

স্থানীয় চিকিৎসক দেবীপ্রসাদ দত্ত বলেন, বাবা তারকনাথের আশীর্বাদধন্য এই মাটিতে বহু গুণীজনের পদধূলি পড়েছে। ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ, মা সারদা, রাজা রামমোহন রায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তারকেশ্বরের মাটি স্পর্শ করেছেন। আমার দাদু প্রয়াত ডাঃ চণ্ডীচরণ দত্ত এই এলাকায় চিকিৎসক হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তারকেশ্বর এস্টেট হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তারকেশ্বরে হিন্দু মহাসভার যে অধিবেশন হয়েছিল, সেখানে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেছিল তারকেশ্বর হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন রামকৃষ্ণ ঘোষ মণ্ডল। যিনি পরবর্তীকালে বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। 
ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে একটি ফলক বা তাঁর মূর্তি স্থাপন স্থাপন করা হয়নি তারকেশ্বরে। জানা গিয়েছে, হিন্দু মহাসভার তিনদিনের অধিবেশন চলাকালীন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নেতাজি সুভাষ রোডে একটি ধর্মশালায় রাত কাটিয়েছেন। ওই ধর্মশালাটির ফলকে লেখা ছিল রেঙ্গুন। সম্ভবত রেঙ্গুনের কোনো ব্যবসায়ী এই ধর্মশালাটি তৈরি করে দিয়েছিলেন। ওই সময় যে সব গুণীজন তারকেশ্বরে আসতেন, তাঁরা ওই ধর্মশালাতেই রাত কাটাতেন। তারকেশ্বর এলে ধনী-দরিদ্র সকলেই এখানে আশ্রয় নিতেন। চারদিকে ঘন জঙ্গলের মাঝে রাজবাড়ির পাশে এই একটি মাত্রই পাকা বাড়ি ছিল। সেই ধর্মশালা ঐতিহাসিক আজ প্রোমোটারদের দখলে। ওই ইমারতগুলি রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে আগামী প্রজন্মকে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য গুণীজনের কিছু স্মৃতি উপহার দেওয়া যেত। তারকেশ্বরের বাসিন্দাদের দাবি, ১৯৪৭ সালের ওই সম্মেলনকে স্মরণ করে রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে একটি ফলক বসানো হোক। সেইসঙ্গে তারকেশ্বরে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হোক। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ঐতিহ্যবাহী ওই ধর্মশালা কীভাবে প্রোমোটারদের দখলে গেল, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। ইতিহাসকে সঙ্গে রেখেই নতুন করে গড়ে উঠুক তারকেশ্বর।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ