পক্ষে
সোহিনী রায়চৌধুরী
দুর্গাপুজোর ঢাক, কালীপুজোর আলো আর নবান্নের আনন্দে সমৃদ্ধ বাংলার উৎসব-সংস্কৃতিতে ধনতেরসের আবির্ভাব এক নতুন অধ্যায়। ধনতেরসে মূলত মারোয়াড়ি ও গুজরাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে সোনা, রুপো ও অন্যান্য ধাতব সামগ্রী কেনার রীতি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। সাম্প্রতিক কয়েক দশকে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, বিজ্ঞাপন ও বাণিজ্যিক প্রচারের হাত ধরে বাংলাতেও এই উৎসবের প্রসার ঘটেছে।
শিক্ষিকা
রুমকি দত্ত
ধনতেরস আজ আর শুধু ভিনদেশি কোনো প্রথা নয়, এটি বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের সংস্কৃতির সঙ্গে ইদানীং নিবিড়ভাবে মিশে গিয়েছে। আধুনিক যুগে উৎসবের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর পাশাপাশি ধনতেরসের দিন নতুন কিছু কেনাকাটা মানুষের মনে সমৃদ্ধি ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। এতে যেমন ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে, তেমনই উৎসবের পরিধিও বিস্তৃত হয়।
কলেজ ছাত্রী
সুপ্রিয়া সেন
কালীপুজোর পরের দিন দিওয়ালি। এই দীপাবলি উৎসবে অবাঙালিরা তাদের প্রথা অনুসারে যে কোনো ধাতু কেনাকে শুভ মনে করে। সোনা, রুপো, তামা, পিতল, স্টিল কেনে যে যার সামর্থ অনুযায়ী। ঘরে লক্ষ্মী গণেশের পুজো করে। সারা বছরের জন্য ধনসঞ্চয় করে ধাতুর মাধ্যমে। এখন বাঙালিও ঘরে ঘরে নতুন বাসন, স্টিল হোক আর রুপো হোক কেনে। তাই কালীপুজোর সঙ্গে ধনতেরসের এই সংস্কৃতি নতুন সংযোজন হয়েছে।
শিক্ষিকা
সলিল কুমার দে
বাঙালির পুজো পার্বণের ১০০ মাইলের মধ্যে ধনতেরস বলে কিছু জানা ছিল না। এটা সম্পূর্ণ ভাবে অবাঙালিদের নিজস্ব লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা। তবে আজকাল চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী বাঙালি দিওয়ালি বা কালীপুজোর পূর্ববর্তী এই তিথিটাকে আপন করে নিয়েছে। দুর্গাপুজোর পরেই ধনতেরস উপলক্ষ্যে জমজমাট বাজার তার প্রমাণ। কে বলে বাঙালি হুজুগে নয়?
অবসরপ্রাপ্ত
বিপক্ষে:
শ্রীয়া মুখোপাধ্যায়
জনপ্রিয়তা বাড়লেই কি কোনো উৎসব বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ হয়ে যায়? ধনতেরসে সোনা-রুপোর পাশাপাশি অনেকে ঝাড়ুও কেনেন, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস। কিন্তু সমৃদ্ধির কামনা যখন কেনাকাটা কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তখন উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য কোথায়? উৎসবের প্রকৃত সমৃদ্ধি কেনাকাটার পরিমাণে নয়, ঐতিহ্যের গভীরতায়।
ছাত্রী
অঙ্কন সাউ
ধনতেরস মূলত উত্তর ও পশ্চিম ভারতের সংস্কৃতির অঙ্গ হলেও বর্তমানে এটি বাঙালি সমাজে বেশ জনপ্রিয়। ধনতেরসে সন্ধ্যায় ধন্বন্তরী, লক্ষ্মী ও কুবের দেবের পূজা করা হয়। বেশিরভাগ বাঙালি ধনতেরসের মূল সংস্কৃতি না বুঝে হুজুগের বশে সোনা, রুপো, তামা বা পিতলের বাসন, ঝাড়ু কেনে। তাই এটা অর্থের উদযাপন কিন্তু সংস্কৃতির নতুন সংযোজন নয়।
ব্যাংক কর্মী
ঐহীন্দ্রিলা ভৌমিক
বাঙালি সংস্কৃতির মূল ধারাটি হল উৎসবকেন্দ্রিক। বিশ্বায়নের যুগে বাণিজ্যিক প্রচার বা হিন্দি বলয়ের প্রভাবে ধনতেরসকে বাংলার সংস্কৃতি বহির্ভূত ভাবা ভুল। কার্তিক অমাবস্যায় দীপাবলিকে ঘিরে ধান, সমৃদ্ধি ও ধাতু পুজোর যে ঐতিহ্য বাংলায় প্রচলিত, ধনতেরস তারই রূপান্তর। নতুন রীতিকে আপন করে বাঙালি। তাই বাংলার বর্তমান সংস্কৃতির স্বাভাবিক অঙ্গ ধনতেরস।
ছাত্রী
সুব্রত ঘোষ
বহু যুগ ধরেই বাঙালি নিজ সমাজের আঙিনায় অবাঙালির অনেক পর্বকে সাদরে গ্রহণ করে উৎসবের পরিসর বাড়িয়ে চলেছে। তেমনই বাংলার সংস্কৃতিতে ধনতেরস বহুবছর ধরে দীপাবলির প্রাক মুহূর্তে পরিবারের শুভ ফলদায়ক উৎসব হিসেবে পালিত হচ্ছে। যা বাঙালির চিরন্তন ‘মিলাবে মিলিবে’ চিন্তাধারারই পরিচায়ক।
সহকারী শিক্ষক



