Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাভাষীদের উপর হেনস্তা, অকথ্য নির্যাতন! বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে যেতে নারাজ নবদ্বীপের ঢাকিরা

বাংলাভাষীদের উপর হেনস্তা, অকথ্য নির্যাতন! বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে যেতে নারাজ নবদ্বীপের ঢাকিরা
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: কথায় আছে সুখের চেয়ে স্বস্তি ভাল। দেশের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রায় রোজই বাংলাভাষী শ্রমিকরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আর সেই উৎকণ্ঠাতেই এবার পুজোয় বাড়তি উপার্জনের আশা ছেড়ে ভিনরাজ্যে ঢাক বাজাতে যাচ্ছেন না নবদ্বীপের ঢাকিদের একাংশ। তাঁরা এবার সুসজ্জিত ঢাক কাঁধে স্থানীয় মণ্ডপগুলিতেই বোল তুলবেন। 

Advertisement

নবদ্বীপ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মালঞ্চপাড়া গাবতলার ঢাকিরা প্রতিবছরই পুজোর সময় উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঢাক বাজাতে যান। কিন্তু এবার ছবিটা পুরো উল্টো। হাতে গোনা দু’একজন ভীত হয়ে দিল্লি কিংবা পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে যাচ্ছেন। কিন্তু সিংহভাগ ঢাকিই এবার ওসব রাজ্য থেকে বায়না এলেও যেতে চাইছেন না। যদিও বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না নদীয়া জেলা বিজেপি। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দীর সাফ কথা, এসবই বিভ্রান্তিমূলক প্রচার। তৃণমূল এসব ছড়াচ্ছে। কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে সমস্যার কিছু নেই। 
কিন্তু দেশের বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ভাষা সন্ত্রাস চলছে। পড়শি ওড়িশাতেই অনবরত আক্রান্ত হচ্ছেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। এই তালিকায় উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লিও রয়েছে। প্রতিবছর এই রাজ্যগুলি থেকেই ঢাক বাজানোর বরাত পান নবদ্বীপের ঢাকিরা।  
প্রতিবছর মহালয়ার পরপরই ভিনরাজ্যে যাওয়ার ট্রেন বা বাস ধরেন এই ঢাকিরা। ঘরে ফেরেন বিজয়া দশমীর পর। তারপরেই ঢাকিপাড়ায় উৎসবের ধুম লাগে। কেউ ছেলে, মেয়েদের নতুন পোশাক কিনে দেন। কেউ স্ত্রীর নতুন শাড়ি কেনেন। কিন্তু এবার তাঁদের সেসব আনন্দের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
নবদ্বীপ পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মালঞ্চপাড়া, দাসপাড়ায় প্রায় দেড়শো পরিবার বাদ্যযন্ত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় ঢাকি রাজু দাস বলেন, চার বছর ধরে ভিনরাজ্যে ঢাক বাজাতে যাই। এবার বাংলাতেই থাকছি। আমাদের পাড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ ঢাকি ভিনরাজ্যে যেতেন পুজোর সময়। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের অধিকাংশই যেতে চাইছেন না।  
পাশে দাঁড়িয়ে আর এক ঢাকি অসীম দাস বলছিলেন, এবার ঝাড়খণ্ডের এক পুজো কমিটির ডাক পেয়েছি। এলাকা পরিচিত বলে তেমন ভয় পাচ্ছি না। এবারও যাব। আবার বেশ কয়েকবছর ধরে দিল্লিতে ঢাক বাজিয়ে আসা প্রবীণ ঢাকি কার্তিক দাস বলেন, দিল্লির পুজো উদ্যোক্তারা এবারও তাঁকে চাইছেন। তিনি বলছিলেন, আতঙ্কের বাতাবরণে ঢাক বাজিয়ে সুখ নেই। এবার গেলেও সব নথিপত্র নিয়ে যাব।১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বৃন্দাবন মণ্ডল বলছেন, বাংলা বিদ্বেষী মনোভাব অন্যান্য রাজ্যগুলিতে বাড়ছে। তাই ঢাকিরা ভয়ে যেতে চাইছেন না। অথচ দেখুন, ভিনরাজ্যের প্রচুর লোক বাংলায় এসে করে খাচ্ছেন।  মালঞ্চপাড়া, দাসপাড়ায ঢাকিদের প্রস্তুতি। মঙ্গলবার তোলা নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ