Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতেও বিশেষ উদ্যোগ, পর্যটকদের থেকে নেওয়া পরিষেবা কর দ্রুত হোটেল মালিকদের মেটাতে নির্দেশ  

দীঘাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতেও বিশেষ উদ্যোগ, পর্যটকদের থেকে নেওয়া পরিষেবা কর দ্রুত হোটেল মালিকদের মেটাতে নির্দেশ
 
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাঁথি: পর্যটকদের কাছ থেকে নেওয়া পরিষেবা কর বা ট্যুরিস্ট সিভিক অ্যামিনিটি চার্জ(টিসিএসি) অবিলম্বে হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থা(ডিএসডিএ)। ২০২৩সালের গোড়া থেকে টানা দু’বছর তাঁরা পর্যটকদের কাছ থেকে নেওয়া পরিষেবা কর ডিএসডিএ’র কাছে জমা দেননি। অবিলম্বে হোটেল-লজ মালিকদের তা জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে হোটেল-লজগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নতুন বছর থেকে দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যৌথভাবে বেশকিছু নিয়ম-নির্দেশিকা চালু করল ডিএসডিএ। পর্যটকদের আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য সম্প্রতি হোটেলমালিক সংগঠন ও ডিএসডিএ একটি বৈঠকে বসে। সেখানে নতুন  বছরে হোটেল-লজগুলি কর্তৃপক্ষকে কী কী নিয়ম মানতে হবে, তার একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হয়। উন্নয়ন সংস্থার প্রশাসনিক অফিসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জেলাশাসক তথা ডিএসডিএ’র চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু মাজী, মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অপূর্বকুমার বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ওল্ড ও নিউ দীঘার সমস্ত হোটেল-লজের মালিক উপস্থিত ছিলেন। 
Advertisement
নিয়ম রয়েছে, পর্যটক পিছু হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষকে ১০টাকা করে পরিষেবা কর দিতে হয়। বাম আমলে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত এই ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষকে সেই করের টাকা নিয়ে ডিএসডিএ’র তহবিলে জমা দিতে হয়। ২০২১সালে কর আদায়ে বিশেষভাবে জোর দেয় ডিএসডিএ। যদিও ২০২২সাল থেকে কর আদায় অনিয়মিত হতে থাকে। ওই বছরের শেষে পুরোপুরি বন্ধই হয়ে যায়। এখন দেখা যাচ্ছে, এক-একটি হোটেল-লজেরই হাজার হাজার টাকা বকেয়া। বলা হয়েছে, ২০২৩সালের জানুয়ারি থেকে রেজিস্টার খাতা অনুযায়ী পর্যটক পরিষেবা কর ডিএসডিএ’তে জমা দিতে হবে। এখন থেকে ‘স্বাগত’ পোর্টালের মাধ্যমে টিসিএসি’র টাকা জমা দেওয়া যাবে। রেজিস্টার অনুযায়ী টাকা না দিলে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। হোটেল-লজের বর্জ্য রাস্তা, নালা-নর্দমায় ফেলা যাবে না। ফেললে ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। ডিএসডিএ’র তরফে দু’টি করে বড় বালতি আকারের ডাস্টবিন দেওয়া হবে। একটিতে তরল  ও আর একটিতে কঠিন বর্জ্য রাখতে হবে। প্রতিদিন হোটেল-লজে ডিএসডিএ’র বর্জ্যবাহী গাড়ি আসবে। তাতেই যাবতীয় বর্জ্য ফেলতে হবে। পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জানাতে  ‘৭৫০১২৯৫০০১’ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করতে হবে।
গত এপ্রিলে দীঘার হোটেল থেকে দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যারা বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফে বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত ছিল। আধার কার্ডে নাম পরিবর্তন করে দীঘায় পর্যটকদের মতোই একটি ঘরভাড়া নিয়ে তারা থাকছিল। এই বিষয়টি সহ চারদিকে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের কথা মাথায় রেখে হোটেল-লজে নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে। বেড়াতে আসা পর্যটকদের নথি যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাগত পোর্টালে পর্যটকদের সমস্ত তথ্য আপলোড করতে হবে। প্রশাসন পোর্টাল এবং রেজিস্টার দু’টোই খতিয়ে দেখবে। কোনও পর্যটককে নিয়ে সন্দেহ হলে পুলিসকে জানাতে হবে।
হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র বলেন, প্রশাসনের তরফে হোটেল-লজ পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মানলে হোটেল-লজগুলি যেমন সুন্দর চলবে, তেমনই সৈকতশহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত থাকবে। আগামী ৩০এপ্রিল জগন্নাথধাম উদ্বোধন উপলক্ষ্যে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হবে দীঘায়। তার আগে যতটা সম্ভব দীঘাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডিএসডিএ’র সিইও বলেন, পরিষেবা কর সংক্রান্ত প্রশাসনের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন হোটেল-লজ মালিকরা। কর ডিএসডিএ’তে জমা পড়লে আরও বেশি উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে। প্রতিটি  হোটেল-লজ কর্তৃপক্ষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে নিয়ম-নির্দেশিকা সুষ্ঠুভাবে মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ