সংবাদদাতা, কাঁথি: ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে পর্যটকদের পকেট থেকে মোবাইল চুরি করত। বৃহস্পতিবার রাতে হাওড়ার বাসিন্দা ওই ছ’জনের পকেটমার গ্যাংকে পাকড়াও করল দীঘা থানার পুলিস। তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি চোরাই মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল হাওড়ার পাঁচলা থানার সুবাওয়াড়া সাহাপাড়ার বাসিন্দা দিল মহম্মদ শাহ, সুরাফউদ্দিন শাহ ও শেখ সানওয়ার আলি এবং উলুবেড়িয়া থানার বানিতবলা এলাকার বাসিন্দা আমির শাহ, ফরিদ শাহ ও জোদেশ শাহ। ধৃতদের বয়স ১৯ থেকে ৩১ বছরের মধ্যে। শুক্রবার সকলকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক এদের মধ্যে চারজনের পাঁচদিনের পুলিস হেফাজত এবং বাকি দু’জনের ১৪ দিনের জেল হেফাজত মঞ্জুর করেন।
Advertisement
গত ৩০ ডিসেম্বর পকেটমার দলটি দীঘায় আসে। হেলিপ্যাড ময়দানের কাছে একটি হোটেলে ঘরভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। ৩১ ডিসেম্বর ও পয়লা জানুয়ারি দীঘায় পর্যটকের থিকথিকে ভিড় ছিল। সেই ভিড়কে কাজে লাগিয়ে সৈকতশহরে একের পর এক ’অপারেশন’ চালায়। দু’ দিনে অন্তত ২৫ জন পর্যটক দীঘা থানায় মোবাইল চুরির অভিযোগ করেন। পুলিস তদন্তে নামে। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হেলিপ্যাড ময়দানের কাছে একটি হোটেলের রিসেপশন থেকে ল্যাপটপ চুরি করতে যায় অভিযুক্তদের একজন। তাকে ধরে ফেলেন হোটেলকর্মীরা। তাকে আটকে রেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে ওই দলটি যে হোটেলে ছিল, সেখান থেকে আরও একজনকে পাকড়াও করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আশপাশ থেকে আরও চারজনকে ধরা হয়। সেই সময় স্থানীয় বহু মানুষ জড়ো হয়ে যান। তাঁরা যুবকদের ধরে উত্তম-মধ্যম দেন। পুলিস উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাদের উদ্ধার করে। পুলিস জানতে পেরেছে, তুমুল ভিড়ের মধ্যে মিশে যেত এরা। হয়তো কেউ ভিড়ের মধ্যে বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিংবা কারও দু’ হাতে ব্যাগ। তাঁদের অন্যমনস্কতার সুযোগে পকেট থেকে ফোন বের করে নিয়ে হাওয়া হয়ে যেত।
পয়লা জানুয়ারির দিন পরিবারের লোকজনকে নিয়ে দীঘায় বেড়াতে গিয়েছিলেন কাঁথির মাজনার তাজপুরের বাসিন্দা শেখ সাদ্দাম হোসেন। শুক্রবার কাঁথি আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, নিউ দীঘায় মেয়েকে কোলে নিয়ে বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। সেই সময় দুষ্কৃতীরা আমার জিন্সের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি কখন, কীভাবে বের করে নিয়েছে, টেরই পাইনি। পরে পকেটে হাত দিতে বুঝতে পারি, ফোন নেই। তারপর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাই। এমনকী যে চুরি করেছে, সে-ই আমাদের এসে বলে, দাদা আপনার ফোন কে, কীভাবে চুরি করেছে? খোঁজাখুঁজির ভানও করে। পরে আদালতে তোলার সময় তাকে দেখে চিনতে পেরে আমি অবাক হয়ে যাই। পুলিসকে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছি। ওসি অমিত প্রামাণিক বলেন, তদন্তের স্বার্থে চারজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও মোবাইল ফোন উদ্ধার হতে পারে। তাছাড়া আমরা মনে করছি, এই গ্যাংয়ের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের সম্পর্কেও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
পয়লা জানুয়ারির দিন পরিবারের লোকজনকে নিয়ে দীঘায় বেড়াতে গিয়েছিলেন কাঁথির মাজনার তাজপুরের বাসিন্দা শেখ সাদ্দাম হোসেন। শুক্রবার কাঁথি আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, নিউ দীঘায় মেয়েকে কোলে নিয়ে বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। সেই সময় দুষ্কৃতীরা আমার জিন্সের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি কখন, কীভাবে বের করে নিয়েছে, টেরই পাইনি। পরে পকেটে হাত দিতে বুঝতে পারি, ফোন নেই। তারপর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাই। এমনকী যে চুরি করেছে, সে-ই আমাদের এসে বলে, দাদা আপনার ফোন কে, কীভাবে চুরি করেছে? খোঁজাখুঁজির ভানও করে। পরে আদালতে তোলার সময় তাকে দেখে চিনতে পেরে আমি অবাক হয়ে যাই। পুলিসকে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছি। ওসি অমিত প্রামাণিক বলেন, তদন্তের স্বার্থে চারজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও মোবাইল ফোন উদ্ধার হতে পারে। তাছাড়া আমরা মনে করছি, এই গ্যাংয়ের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত। তাদের সম্পর্কেও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।



