


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের সময় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটলে, আগাম নোটিসের পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই দাগী দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এবারের হাইভোল্টেজ বিধানসভা ভোটে রাজনৈতিক হিংসায় লাগাম দিতে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা।
শুধু রাজ্য পুলিশ নয়। ডিজির এই নির্দেশ কলকাতা পুলিশেও কার্যকর করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে লালবাজার কলকাতার সমস্ত ডিভিশনের ডিসিদের এই নির্দেশিকার কপি পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ওই নির্দেশে ডিজি বলেছেন, ‘এবারের ভোটে রাজনৈতিক হিংসার ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএসের ৩৫ নম্বর ধারাকে কাজে লাগাতে হবে।’ উল্লেখ্য, এই ধারায় আগাম নোটিস না দিয়েও পরোয়ানা ছাড়া জরুরি ক্ষেত্রে দাগী দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করার সুযোগ রয়েছে পুলিশের হাতে।
পাশাপাশি ডিজির নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে কোথাও কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধ ঘটালে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫(১)(এ) ধারা প্রয়োগ করে তৎক্ষণাৎ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আবার, যদি পুলিশের কাছে নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত আগাম খবর আসে, যে কোনো ব্যক্তি ভোটের সময় রাজ্যে এফআইআর যোগ্য অপরাধ ঘটাতে চলেছে, যার সাজা সাত বছরের কম হলেও, তাকে বিএনএস-এর ৩৫(১)(বি)(ii) ধারা প্রয়োগ করে গ্রেপ্তার করতে হবে। তবে এই ধরনের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অতি অবশ্যই পুলিশ অফিসারকে থানার জিডি এবং কোর্টের রিমান্ডে গ্রেপ্তারের উপযুক্ত কারণ লিখতেই হবে।
আসন্ন বিধানসভা ভোটে রাজ্য পুলিশের সর্বচ্চো কর্তার এই নির্দেশকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে এরাজ্যের পুলিশ মহল। কারণ, এবারের ভোটে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রথম দিন থেকে কড়া অবস্থান নিচ্ছে ভিনরাজ্য থেকে আসা আইপিএস পুলিশ পর্যবেক্ষকদের দল। সাধারণত, অতীতের বিধানসভা বা লোকসভা ভোটের ক্ষেত্রে ভিনরাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মধ্যে একটা ঢিলেঢালা মনোভাব দেখা যায়। এবার তার ছিঁটেফোঁটা দেখা যাচ্ছে না। বরং আচমকা হাতে কলমে প্রতিটি থানা, বুথ পরিদর্শন করছেন তাঁরা। যা কার্যত নজিরবিহীন বলে মানছেন পুলিশ প্রশাসন।