Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথি ও বহিত্রকুণ্ডার প্রাচীন রথযাত্রা ঘিরে এলাকাবাসীর ভক্তি, আবেগ আজও অটুট

কাঁথির প্রাচীন জনপদ বাহিরীর প্রায় সাড়ে চারশো বছর এবং বহিত্রকুণ্ডা এলাকায় আড়াইশো বছরেরও বেশি প্রাচীনরথযাত্রা উৎসব ঘিরে আনন্দে মাতোয়ারা হন এলাকাবাসী।

কাঁথি ও বহিত্রকুণ্ডার প্রাচীন রথযাত্রা ঘিরে এলাকাবাসীর ভক্তি, আবেগ আজও অটুট
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির প্রাচীন জনপদ বাহিরীর প্রায় সাড়ে চারশো বছর এবং বহিত্রকুণ্ডা এলাকায় আড়াইশো বছরেরও বেশি প্রাচীনরথযাত্রা উৎসব ঘিরে আনন্দে মাতোয়ারা হন এলাকাবাসী। দু’টি জায়গায় পুরীর মন্দিরের বিভিন্ন নিয়ম-অনুশাসন মেনে রথযাত্রা পরিচালিত হয়। বাহিরীতে যেখানে বর্তমানে সুউচ্চ সাদা রঙের জগন্নাথ মন্দির রয়েছে, সেখানেই বহুকাল আগে রথযাত্রা হত। দীর্ঘ ১৮১বছর ধরে সেই মন্দিরপ্রাঙ্গণেই রথযাত্রা হয়েছে। তবে ফাঁকা জায়গায় মন্দির হওয়ায় জগন্নাথদেব-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি চুরি হয়ে যেত। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা আলোচনা করে গ্রামের মধ্যে আরেকটি মন্দির তৈরি করে জগন্নাথ-বলরাম ও সুভদ্রাকে অধিষ্ঠান করানোর সিদ্ধান্ত নেন। ঠাঁইনাড়া হন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। সেখানেই নতুন পাকা মন্দির তৈরি হয় এবং মন্দির প্রাঙ্গণে ২৬১বছর ধরে রথযাত্রা হয়ে আসছে। সব মিলিয়ে বাহিরীর রথযাত্রা ৪৪২ বছরের। বর্তমানে অবশ্য হেরিটেজ কমিশনের উদ্যোগে প্রাচীন মন্দিরের সংস্কার হয়েছে। পোড়ামাটির ইটের রঙের বদলে মন্দিরের রং হয়েছে সাদা। এদিকে গ্রামের মধ্যে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দিরটি বহুকাল ধরে একচালার থাকলেও পরবর্তীকালে বাহিরী জগন্নাথ সেবায়েত ট্রাস্টির উদ্যোগে সুদৃশ্য মন্দির গড়ে উঠেছে। রথযাত্রার দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার তিনটিসুসজ্জিত বড় রথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে মাসির বাড়ি পর্যন্ত পরিক্রমা করে।ট্রাস্টি কমিটির কর্মকর্তা সুদীপ্ত নন্দ বলেন, রথযাত্রা ও উল্টোরথের দিন মেলা বসে। হাজার হাজার মানুষ এই মেলায় ভিড় জমান। মেলা উপলক্ষে প্রচুর দোকান বসে। 

Advertisement

বহিত্রকুণ্ডার রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করেও বিরাট মেলা বসে। কথিত আছে, তৎকালীন সময়ে এলাকাটি মাজনামুঠা পরগনার অধীনে ছিল। সেই সময় ওড়িশার সাধু কলাবন্ধু গোস্বামী এলাকায় ধর্মপ্রচারের উদ্দেশ্যে আসেন। তিনি জগন্নাথদেবের সেবক ছিলেন। তৎকালীন সময়ে যজ্ঞানুষ্ঠান সহ নানাভাবে জগন্নাথদেবের আরাধনা করেছিলেন কলাবন্ধু। কলাবন্ধুর ভক্তিশ্রদ্ধা ও সাধনায় মুগ্ধ হন রাজা। রাজা তাঁকে এই এলাকায় অনেক সম্পত্তি দান এবং তা পরিচালনার দায়িত্ব দেন। যেহেতু কলাবন্ধু জগন্নাথের সেবক ছিলেন, তাই তিনি এলাকায় জগন্নাথের সেবাপুজোর সিদ্ধান্ত নেন। আটচালার মাটির মন্দির তৈরি করে জগন্নাথের আরাধনা শুরু করেন কলাবন্ধু। পরবর্তীকালে গোস্বামীরাই পণ্ডা পদবি গ্রহণ করেন এবং পণ্ডা পরিবারই দীর্ঘকাল ধরে এই মন্দিরের সেবায়েতের দায়িত্বে রয়েছেন। বহুকাল মাটির মন্দিরে পুজো হতো। কয়েক দশক আগে পাকা মন্দির গড়ে তোলা হয় বহিত্রকুণ্ডা গ্রামে। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে কোনও চাঁদা নেওয়া হয় না। রথযাত্রার দিন ৩০ফুটের সুসজ্জিত রথে সওয়ার হয়ে মাসির বাড়ি যান জগন্নাথদেব-বলরাম-সুভদ্রা। ভগবানপুর-২ ব্লকের পাঁউশিতে বহু পুরনো রথ ঘিরে উন্মাদনায় মাতেন বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দা বিষ্ণুপদ ভুঁইয়া বলেন, রথ দেখে আম, কাঁঠাল, জিলিপি নিয়ে বাড়ি ফেরেন সকলে। প্রচুর চারাগাছ বিক্রি হয়। গ্রামের সকলে সাধ্যমতো সাহায্য করি।

সম্পর্কিত সংবাদ