সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির প্রাচীন জনপদ বাহিরীর প্রায় সাড়ে চারশো বছর এবং বহিত্রকুণ্ডা এলাকায় আড়াইশো বছরেরও বেশি প্রাচীনরথযাত্রা উৎসব ঘিরে আনন্দে মাতোয়ারা হন এলাকাবাসী। দু’টি জায়গায় পুরীর মন্দিরের বিভিন্ন নিয়ম-অনুশাসন মেনে রথযাত্রা পরিচালিত হয়। বাহিরীতে যেখানে বর্তমানে সুউচ্চ সাদা রঙের জগন্নাথ মন্দির রয়েছে, সেখানেই বহুকাল আগে রথযাত্রা হত। দীর্ঘ ১৮১বছর ধরে সেই মন্দিরপ্রাঙ্গণেই রথযাত্রা হয়েছে। তবে ফাঁকা জায়গায় মন্দির হওয়ায় জগন্নাথদেব-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি চুরি হয়ে যেত। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা আলোচনা করে গ্রামের মধ্যে আরেকটি মন্দির তৈরি করে জগন্নাথ-বলরাম ও সুভদ্রাকে অধিষ্ঠান করানোর সিদ্ধান্ত নেন। ঠাঁইনাড়া হন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। সেখানেই নতুন পাকা মন্দির তৈরি হয় এবং মন্দির প্রাঙ্গণে ২৬১বছর ধরে রথযাত্রা হয়ে আসছে। সব মিলিয়ে বাহিরীর রথযাত্রা ৪৪২ বছরের। বর্তমানে অবশ্য হেরিটেজ কমিশনের উদ্যোগে প্রাচীন মন্দিরের সংস্কার হয়েছে। পোড়ামাটির ইটের রঙের বদলে মন্দিরের রং হয়েছে সাদা। এদিকে গ্রামের মধ্যে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দিরটি বহুকাল ধরে একচালার থাকলেও পরবর্তীকালে বাহিরী জগন্নাথ সেবায়েত ট্রাস্টির উদ্যোগে সুদৃশ্য মন্দির গড়ে উঠেছে। রথযাত্রার দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার তিনটিসুসজ্জিত বড় রথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে মাসির বাড়ি পর্যন্ত পরিক্রমা করে।ট্রাস্টি কমিটির কর্মকর্তা সুদীপ্ত নন্দ বলেন, রথযাত্রা ও উল্টোরথের দিন মেলা বসে। হাজার হাজার মানুষ এই মেলায় ভিড় জমান। মেলা উপলক্ষে প্রচুর দোকান বসে।



