সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বাসন্তীপুজো চলছে। শুক্রবার মহাসপ্তমীতে প্রতিটি মন্দিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। শনিবার অষ্টমীপুজোয় আরও বেশি ভিড় হওয়ার আশায় উদ্যোক্তারা।
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বাসন্তীপুজো চলছে। শুক্রবার মহাসপ্তমীতে প্রতিটি মন্দিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। শনিবার অষ্টমীপুজোয় আরও বেশি ভিড় হওয়ার আশায় উদ্যোক্তারা।
নবদ্বীপের ৫০০বছরের পুরনো বুড়োশিব, যোগনাথ শিব, চারিচারাবাজারের বালকনাথ, বৌবাজারের বাণেশ্বর শিবমন্দিরে বাসন্তীপুজো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠীর দিন বোধনের মধ্য দিয়ে পুজো শুরু হয়। সোমবার দশমীপুজোর পর শেষরাতে নবদ্বীপের প্রাচীন লৌকিক প্রথা মেনে বাসন্তী অর্থাৎ দেবী দুর্গার সঙ্গে শিবের বিয়ে দেওয়া হবে। শিব-দুর্গার বিয়ে দেখতে এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা বহু মানুষও রাত জাগেন। সামাজিক বিয়ের মতোই নানা উপহারসামগ্রী দিয়ে বরাসন সাজানো হয়। বাদ্যযন্ত্র সহকারে জল সাজা, শিব-দুর্গার মালাবদল, সাত পাকের আয়োজন করা হয়।
বুড়োশিব মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কৌশিক সিংহ ও অরূপ সাহা বলেন, পঞ্চমীর দিন মণ্ডপে প্রতিমা আনা হয়। বৃহস্পতিবার ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন হয়। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী-চারদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিদিন ভোগে খিচুড়ি, পাঁচরকম ভাজা, চাটনি, পায়েস, রসগোল্লা ভোগ দেওয়া হয়। সন্ধ্যা আরতির পর দেবীকে লুচি, সুজি, মিষ্টি ভোগ নিবেদন করা হয়। ওই মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক রতন চক্রবর্তী ও কোষাধ্যক্ষ তপন মুখোপাধ্যায় বলেন, সোমবার দশমীপুজোর পর শেষরাতে বুড়ো শিবের সঙ্গে দুর্গা অর্থাৎ পার্বতীর বিয়ে দেওয়া হবে। বিয়ে দেখতে আসা ভক্তদের মধ্যে লুচি, বোঁদে, মিষ্টি বিতরণ করা হবে। নবদ্বীপে যেসব শিবমন্দিরে বাসন্তীপুজো হয়, সেসব মন্দিরে শিব ও বাসন্তী অর্থাৎ পার্বতীর বিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য সমীর বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেন, প্রাচীন বুড়োশিব মন্দিরে বছরভর গাজন উৎসব, নীলপুজো, শিবের বিয়ে সহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। নবদ্বীপের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ দূরদূরান্তের মানুষ এসমস্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।