Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুলটির গোঁসারা বুড়ি সর্বজনীনের পুজোয় প্রতিমার খরচ দেন ভক্তরা

দুর্গাপুজোর সময় অন্য পাড়ায় গিয়ে অঞ্জলি দিতে হতো বাড়ির মেয়ে-বউদের। অনেক ক্ষেত্রেই সেই পাড়ার বাসিন্দাদের অঞ্জলি দেওয়া শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হতো।

কুলটির গোঁসারা বুড়ি সর্বজনীনের পুজোয় প্রতিমার খরচ দেন ভক্তরা
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলটি: দুর্গাপুজোর সময় অন্য পাড়ায় গিয়ে অঞ্জলি দিতে হতো বাড়ির মেয়ে-বউদের। অনেক ক্ষেত্রেই সেই পাড়ার বাসিন্দাদের অঞ্জলি দেওয়া শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হতো। এনিয়ে গৃহিণীরা নিজ নিজ বাড়ির কর্তার কাছে একই দিনে অভিযোগ ঠুকে দিয়েছিলেন। ‘হোম মিনিস্টার’-এর ইচ্ছে পূরণ করতেই পাড়ার পুরুষরা দুর্গাপুজো আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন! এভাবেই কুলটির গোঁসারা বুড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসবের পুজো শুরুতে অনুঘটক হয়েছিল বাড়ির মহিলাদের অভিমান। পুজো আয়োজনের জন্য মাঠ ছিল না। তাই রাস্তার পাশের ফাঁকা জমিতেই পুজো শুরু হয়। তবে শুধুমাত্র প্রথমবছরই গোঁসারা বুড়ি সর্বজনীন পুজো কমিটিকে দুর্গাপ্রতিমা কিনতে হয়েছিল। কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে আসা হয়েছিল। যাঁরা মানত করেছিলেন, তাঁরা নাকি ফলও পান চমকপ্রদ। এরপর থেকেই মানত পূরণ হওয়া ভক্তরা প্রতিমার খরচ জোগান। বছরের পর বছর ধরে এমনই রীতি চলে আসছে।

Advertisement

পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ বেণু মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রতিমার পাশাপাশি দেবীর সাজসজ্জা, ফুল, ফলের খরচও ভক্তরা দেন। আমরা বুঝতে পারি, দেবীর কাছে নির্দিষ্ট মানত পূরণ হওয়ার কারণেই তাঁরা এই খরচ দিচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, এই দুর্গাপুজোয় মানত করে বহু মানুষের চাকরি হয়েছে। অনেকক্ষে঩ত্রে তাঁরাই প্রতিমা তৈরির খরচ দিয়েছেন। আগে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা কেনা হলেও এখন খুদিকা গ্রামের শিল্পীই প্রতিমা তৈরি করেন। শ্রীপুর-গাঙ্গুটিয়া রাস্তার উপর যে ফাঁকা জায়গায় দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল, সেই জমিটি পুজো কমিটিকে দান করে দিয়েছেন উৎপল মাজির পরিবার। সেখানে সরকারি সাহায্যে শেড তৈরি হয়েছে।ঠিকমতো অঞ্জলি দিতে না পারার কারণেই পুজো শুরু হয়েছিল। সেকারণে পুজোয় অঞ্জলির উপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়। গোঁসারা বুড়ি সর্বজনীনের অষ্টমীর অঞ্জলি হয় নজরকাড়া। পুজো কমিটির সভাপতি জয়ন্ত রায় বলেন, অষ্টমীতে এত ভিড় হয় যে, পুলিশ এসে অনুরোধ করে-রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি অঞ্জলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। আগে সপ্তমী থেকে দশমী-চারদিনই স্থানীয়রা একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করতেন। করোনার পর থেকে শুধু নবমীর দিন একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়া হয়। মেনুতে থাকে খিচুড়ি, সব্জি, চাটনি, বোঁদে ও পায়েস। ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার দুলাল চক্রবর্তী বলেন, এই পুজোর সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। বারোয়ারি পুজো এলাকার সবার নিজের বাড়ির পুজো হয়ে উঠেছে।পুজো কমিটির প্যাট্রন আশিস চক্রবর্তী ও সুব্রত মিশ্র বলেন, আমাদের এলাকায় গোঁসাইবুড়ি কালীমন্দির বিখ্যাত। সেই মায়ের নাম অনুসারেই পুজো কমিটির নামকরণ হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ