Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেহাল রাস্তায় গড়াল না রথের চাকা ভক্তিবেদান্ত আশ্রমের ভক্তদের মন খারাপ

২৭ বছরের ঐতিহ্যে ছেদ পড়ল। বেহাল রাস্তার কারণে এবছর বেরতেই পারল না ভক্তিবেদান্ত আশ্রমের রথ।

বেহাল রাস্তায় গড়াল না রথের চাকা ভক্তিবেদান্ত আশ্রমের ভক্তদের মন খারাপ
  • ২৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: ২৭ বছরের ঐতিহ্যে ছেদ পড়ল। বেহাল রাস্তার কারণে এবছর বেরতেই পারল না ভক্তিবেদান্ত আশ্রমের রথ। লালপুল থেকে মকরমপুর হয়ে লাভপুর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে শম্বুকের গতিতে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সেই কারণে এবার ঐতিহ্যবাহী রথের চাকা গড়াল না রাস্তায়। পূর্ত ও সড়ক দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকা ওই রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। গ্রীষ্মকালের মধ্যেই সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। ‌কিন্তু, তা না হওয়ায় এবার ভক্তিবেদান্ত আশ্রম সহ মকরমপুরের অন্যান্য রথের চাকাও গড়াল না। ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত আশ্রমের মোহন্ত পরমানন্দ গিরি সহ অন্যান্য ভক্তরা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, লালপুল থেকে লাভপুর পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু, সংস্কারের কাজ অত্যন্ত মন্থর গতিতে চলছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি পাইপ লাইন ও বিদ্যুতায়নের সমন্বয়হীন কাজ জনজীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে।
মকরমপুরের ভক্তিবেদান্ত আশ্রমে প্রায় তিন দশক ধরে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা পালিত হয়ে আসছিল। ২৭ বছর ধরে নীরবচ্ছিন্ন এই আধ্যাত্মিক পরম্পরা শুধুমাত্র মকরমপুর নয়, আশপাশের বহু মানুষের কাছেও ভক্তি ও মিলনের মেলা। কিন্তু, এবছর সেই রথ আর গড়াল না। দীর্ঘদিনের অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়া রাস্তা এবার আশ্রমের রথের চাকা থমকে দিয়েছে। আশ্রমের মোহন্ত পরমানন্দ গিরি বলেন, এই রথযাত্রা আমাদের সবার কাছে গর্বের। ২৭ বছর ধরে এই রথযাত্রা উদযা঩পিত হয়ে আসছে। আমরা সারা বছর ধরে এই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি। এবছর রথ বের হল না, ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। দুঃখ প্রকাশের ভাষা নেই। তবে ধর্মীয় পুজো, আচার-আচরণ যথা নিয়মে করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও আশ্রম কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করার দাবি জানিয়েছেন। আশ্রমের ভক্ত কৃষ্টিশ্রী ভট্টাচার্য, এলাকাবাসী সৌগত সামন্ত অভিযোগের সুরে বলেন, পূর্ত ও সড়ক দপ্তরের উদাসীনতার কারণে এবছর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উদ্‌যাপন থেকে বঞ্চিত হলাম। এই ধরনের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অর্জুন ভৌমিক বলেন, রথের বিষয়টি জানা ছিল না। না হলে বিকল্প ব্যবস্থা করা হতো। তবে বৃষ্টির কারণে রাস্তার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শীঘ্রই কাজ শেষ করা হবে।
মকরমপুরের খারাপ রাস্তা (বাঁদিকে)। দাঁড়িয়ে রথ (উপরে)। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ