Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুসলিম ভাইবোনেদের তৈরি জপমালার থলি নিয়ে ‘কৃষ্ণনাম’ জপ করেন ভক্তরা

মুসলিম ভাইবোনেদের তৈরি জপমালার থলি নিয়ে ‘কৃষ্ণনাম’ জপ করেন ভক্তরা
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: মুসলিম ভাইবোনদের হাতে তৈরি জপমালার থলে ঝুলছে হৃদয়, রামানন্দ, শিবনাথ, বিপাশা, বাসন্তীদের গলায়। রোজা পালনের পর জপমালার থলে তৈরি করে সম্প্রীতির অনন্য নজির সৃষ্টি করে চলেছেন নাদনঘাট থানার আনোয়ারা, বিলকিস, আনারকলি, রুনা খাতুনরা। জপমালার থলেতে এমব্রয়ডারি করে ফুটিয়ে তুলছেন জগন্নাথ, কৃষ্ণ, গোপাল, চৈতন্য, নিতাই-গৌর, রাধাগোবিন্দ সহ নানা দেবদেবীর মূর্তি। সংসারের কাজের ফাঁকে থলে তৈরি করে মাসে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় করে সংসারের হাল ধরছেন তাঁরা। শনিবার তাঁরা অপূর্ব সুন্দর হস্তশিল্পের নমুনার জপমালা থলে তুলে ধরেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের কাছে। মন্ত্রী তাঁদের শিল্প নৈপুণ্যে দারুণ খুশি। তিনি বলেন, এই শিল্পকলা নিয়ে আগামী দিনে কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পদপ্তরের সঙ্গে কথা বলবেন। 

Advertisement

পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার সিংহজুলি গ্রাম। এই গ্রামের বড় মসজিদ পাড়ার হজরত মণ্ডল বছর ছয়েক আগে স্ত্রীকে আনোয়ারাকে নিয়ে বাড়িতে এমব্রয়ডারি করে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের জপমালার থলে তৈরি শুরু করেন। নবদ্বীপ, মায়াপুর সহ নানা মঠ-মন্দিরে তিনি তা সাপ্লাই দিতে থাকেন। তাঁর হাতের নিখুঁত শিল্প নৈপুণ্যে অর্ডার বাড়তে থাকে। চাহিদা অনুযায়ী মাল সাপ্লাই দিতে হিমশিম খেতে হয়। এরপরই তিনি গ্রামের বিলকিস, আনারকলি, সাহানারা, রুপিয়া, রুনা ও স্বপ্না খাতুন মণ্ডলদের মতো ১৫ জন মুসলিম মহিলাকে কাজ শিখিয়ে দক্ষ করে তোলেন। এখন তাঁরা মাসে ৫-৬ হাজার টাকা রোজগার করেন। 
শনিবার সিংহজুলি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ভোটার তালিকা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন মন্ত্রী। সেখানেই মহিলারা তাঁদের হাতে তৈরি জপমালার সুদৃস্য থলে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। হজরত মণ্ডল বলেন, জপমালার থলে তৈরি করলেই বিক্রি হয়ে যায়। নবদ্বীপ, মায়াপুরের মঠ মন্দির তা কিনে নেয়। তবে, মুলধনের অভাবে কর্মীদের পর্যাপ্ত কাজ দিতে পারি না। পর্যাপ্ত কাজ দিতে পারলে কর্মীরা মাসে আট-দশ হাজার টাকা রোজগার করতে পারেন। 
আনারকলি, বিলকিসরা বলেন, স্বামীদের রোজগার তেমন নেই। সংসারের কাজ সামলে মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা রোজগার হয়। কাজ জোগান ভালো থাকলে আয় আরও বাড়ে। রোজার মাসেও নিয়মিত এই কাজ করে সেই টাকায় ছেলে মেয়েদের ঈদের নতুন পোষাক কিনে দিয়েছি। এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য ভুলু নায়েক বলেন, মুসলিম মেয়েরা জপমালা তৈরি করছেন বলে এলাকায় কোনও বিভেদ নেই। স্বপনবাবু বলেন, কর্মের মধ্যে ধর্মের কোনও বিভাজন নেই। মন্দির, মসজিদ তৈরি করেন মুসলিম হিন্দু ভাইয়েরা। তেমনি সিংজুলির মুসলিম মা-বোনেরা বৈষ্ণবের জপমালার থলেতে এমব্রয়ডারি করে ফুটিয়ে তুলছে রাধাকৃষ্ণ, জগন্নাথ, নিতাইয়ের ছবি। এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়ে তুলছেন তাঁরা। সরকারিভাবে ক্লাস্টারের মাধ্যমে কিছু করা যায় কি না, তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ