Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালনায় ২৫ চূড়া গোপাল জিউ মন্দিরে জন্মাষ্টমীতে ভক্তের ঢল

জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে কালনা শহরের আড়াইশো বছরের প্রাচীন গোপালজিউয়ের ২৫ চূড়া মন্দির। শুক্রবার থেকেই ফুল ও আলো দিয়ে সাজানো হয় মন্দির চত্বর।

কালনায় ২৫ চূড়া গোপাল জিউ মন্দিরে জন্মাষ্টমীতে ভক্তের ঢল
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা:  জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে কালনা শহরের আড়াইশো বছরের প্রাচীন গোপালজিউয়ের ২৫ চূড়া মন্দির। শুক্রবার থেকেই ফুল ও আলো দিয়ে সাজানো হয় মন্দির চত্বর। শনিবার সন্ধ্যায় অধিবাসের মধ্যে দিয়ে কষ্টি পাথরের প্রাচীন গোপাল বিগ্রহকে নব সাজে সিংহাসনে অধিষ্ঠান করানো হয়। রাতভর পুজো পাঠ দেখতে  ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। দু’শো-আড়াইশো বছর পূর্বে বর্ধমান রাজ পরিবারের হাত ধরে কালনা শহর ও শহরতলিতে একাধিক শিব মন্দির গড়ে উঠলেও সমসাময়িক গড়ে ওঠে একাধিক বৈষ্ণব মন্দিরও। গোপাল মন্দির, লালজী  মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির প্রভৃতি। কথিত আছে, ১৭৬৬ সালে বর্ধমানের রাজ মহিষীর আবদারে বর্ধমান মহারাজার হাত ধরে কালনা শহরের সিদ্ধেশ্বরী পাড়ায় গড়ে ওঠে গোপাল জিউ মন্দির। টেরাকোটার শিল্প স্থাপত্যে সমৃদ্ধ ২৫ চূড়াবিশিষ্ট এই মন্দির ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীন। মন্দিরের বিগ্রহ রুপে রয়েছে প্রায় এক ফুটের কালো কষ্ঠিপাথরের গোপাল বিগ্রহ। নিত্য পুজো ছাড়াও রাস, ঝুলন, অন্নকূট, দোল সহ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে বড় অনুষ্ঠান হয় এখানে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উৎসব কমিটি গড়ে দীর্ঘ বছর ধরে উৎসব পালন করে আসছেন। উৎসাহী ভক্তদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে গোপাল জিউ সেবা কমিটি। ঝুলন পূর্ণিমার পর থেকে গোপাল বিগ্রহের অঙ্গরাগ শুরু হয়। নতুন রুপে সেজে ওঠে গোপাল। জন্মাষ্টমীতে অধিবাসের মধ্যে দিয়ে বিগ্রহ এক বছরের জন্য সিংহাসনে অধিষ্ঠান করা হয়। এরপর গোপালের পুজো পাঠ কীর্তন, পুষ্পাঞ্জলী ও ভোগরাগ হয় রাতভর। ভোগ হিসাবে তালের বড়া, সুজির পায়েস, দুধ, ক্ষীর সহ নানান পদের মিষ্টি নিবেদন করা হয় গোপালকে। হাজার, হাজার ভক্তপ্রাণ মানুষ মেতে ওঠেন এই জন্মাষ্টমী উৎসবে। চলে নাম সংকীর্তন। উৎসব কমিটির সম্পাদক অরুপ ভট্টাচার্য বলেন, জন্মাষ্টমী উৎসব গোপাল জিউ মন্দিরের বৃহত্তম উৎসব বলা চলে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ’য়ে শ’য়ে ভক্তপ্রাণ মানুষ ভিড় করেন মন্দিরে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ