২০১৪ সাল। বিশ্বকাপ সেবার ব্রাজিলে। শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি কোস্টারিকা। ১২০ মিনিটেও ম্যাচ গোলশূন্য। ডাচ কোচ লুই ফন গল। টাই-ব্রেকারের ঠিক আগে রিজার্ভ গোরক্ষক টিম ক্রলকে ওয়ার্ম আপ করতে দেখে সমর্থকরা অবাক। আরে ফনের মাথা খারাপ হল নাকি! এক নম্বর কিপার জাসপার ক্লিসেনের পরিবর্তে ক্রলকে নামান কিংবদন্তি কোচ। দেশকে জিতিয়ে ক্রল দেন গুরুদক্ষিণা। ‘ক্রল জুয়া’ ছিল একেবারেই পরিকল্পিত। তিনি দীর্ঘদেহী। রিচও বেশি। টাই-ব্রেকারে সেই সুবিধা কাজে লাগতেই এমন ভাবনা ছিল ডাচ কোচের। ভারতীয় ফুটবলেও এমন উদাহরণ প্রচুর। ২০১০ সাল। কটকে ফেডারেশন কাপের সেমি-ফাইনালে ডেম্পোর সামনে মোহন বাগান। টাই-ব্রেকারের আগে শিল্টন পালকে তুলে এই অধমকে মাঠে নামান কোচ। চোখ সেট হতেই মনে হয়েছিল হারব না কোনওমতে। কালু ওগবার শট রোখার পর নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট। আসলে পরিকল্পনা নিখুঁত থাকলে সাফল্য আসবেই।
শিল্ড ফাইনালে দেবজিৎকে নামিয়ে অস্কার ব্রুজোঁ ফাটকা খেললেন। তবে লাভ হয়নি। বিভ্রান্ত ছিল দেবজিৎ। উচ্চতা বেশি নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গেই জং পড়েছে রিফ্লেক্সে। লিগে ডায়মন্ডহারবার ম্যাচ মনে করুন। ওর আউটিংয়ের ভুলে গোল খায় ইস্ট বেঙ্গল। টাই-ব্রেকারে মানসিক প্রস্তুতি দরকার। পড়াশুনা না করে পরীক্ষায় বসলে পাশ করা যায় কী? দেবজিতের নড়াচড়ায় মনে হয়েছে ওয়ার্ম আপ হয়নি। ম্যাড়ম্যাড়ে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। বরং গিল অনেক চনমনে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি বাইরে মারে কামিংস। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিগুণ বেড়ে যায় আত্মবিশ্বাস। শেষ মুহূর্তে মেহতাবের হেড ফিস্ট করে বাঁচায় গিল। এই টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নজরে রাখা উচিত ছিল অস্কারের। আসলে ডুরান্ড কাপে গিলের ভুলেই ছিটকে যায় ইস্ট বেঙ্গল। ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে মুখিয়ে ছিল পাঞ্জাবি গোলরক্ষক। সেই সুযোগ কেড়ে নেওয়া বড় ভুল। তার বদলে দেবজিৎকে নামানো আরও বড় ভুল। অর্থহীন সিদ্ধান্ত টাই-ব্রেকার শুরুর আগে পিছিয়ে দেয় ইস্ট বেঙ্গলকে। ম্যাচ হেরে বকলমে গোলকিপার কোচের উপর দায় চাপালেন অস্কার। টিম স্পিরিটের জন্য মোটেও ভালো বিজ্ঞাপন নয়।