সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: পর পর দোকান। প্রতিটি দোকানের মাথায় জোড়াফুল ও পদ্মের ঝান্ডা। শিলিগুড়ি শহরে এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে মহাবীরস্থান বাজারে। দুই ফুল ছাড়া অন্য কোনো দলের ঝান্ডা নেই বললেই চলে। কাস্তে-হাতুড়ি-তারার ঝান্ডা উঁকি দিলেও হাতের ঝান্ডা নেই। কেন? সবজি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বক্তব্য, এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদী ইমেজ এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর মতো সামাজিক প্রকল্প তৃণমূলের পুঁজি। আর বিজেপি ধর্মীয় সুরসুরি দিয়ে মেরুকরণের রাজনীতি কায়েম করার ছক কষেছে। দু’পক্ষের এমন লড়াইয়ে অন্যরা জমিতে সেভাবে দাঁড়াতে পারছে না। তাই এখানে প্রচারে দুই ফুলের মধ্যে টক্কর চলছে।
শিলিগুড়ি শহরে ছড়িয়ে থাকা বাজারগুলির মধ্যে মহাবীরস্থানের বাজার অন্যতম। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জ উড়ালপুলের নীচে রেল লাইনের ধারে এই বাজার। এটা মধ্যবিত্তদের ফল ও সবজির বাজার হিসেবেই পরিচিত। সকাল থেকে বাজার বসলেও সন্ধ্যার পর তা জমজমাট হয়। বুধবার বিকেলে সবজি কেনার ফাঁকে ভোটের হাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করতেই বিক্রেতা নিখিল রায় বলেন, দাদার দল (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) লম্ফঝম্ফ করলেও রাজ্যের গদিতে ফের দিদিই (তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বসবেন।
কেন? মেডিকেল মোড়ে নিখিলের বাড়ি। তিনি দৈনিক এখানে ব্যবসা করতে আসেন। বলেন, অসম, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত সহ বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি সরকার। তাই সেইসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা কোনো ইস্যুতেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিবাদ করতে পারেন না। একমাত্র বাংলার ‘বাঘিনি’ মমতা এসআইআর, রান্নার গ্যাস নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন। দেশের স্বার্থে এটা প্রয়োজন। তাই বিভিন্ন এলাকার লোকের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে দিদিই এখানে থাকবেন।
সঙ্গে সঙ্গে সমীর দাস নামে এক ক্রেতার সংযোজন, শুধু লড়াই নয়, রাজ্যের যুবক-যুবতী ও মহিলাদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন মমতা। তাঁর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী প্রভৃতি প্রকল্প হিট। এর সুফল পাবেন এখানকার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব।
এই বাজারে এর বিপরীত প্রতিক্রিয়াও মিলেছে। বাজারের আরএক মধ্যবয়সি সবজি ব্যবসায়ী রতন সরকার বলেন, এবার রাজ্যে পরিবর্তন দরকার। তা হবেও। কেন? শহরের চয়নপাড়ায় তাঁর বাড়ি। তাঁর কপালে চন্দনের তিলক। গলায় কাঠের মালা। বলেন, এবার না পালটালে এখানে আর থাকা যাবে না। এটা ‘বাংলাদেশ’ হয়ে যাবে।
শুধু মহাবীরস্থান বাজার নয়, শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধান মার্কেট, ক্ষুদিরামপল্লি, হিলকার্ট রোড, হকার্স কর্নার সহ বিভিন্ন বাজারে ও পাড়ায় কান পাতলেই মিলছে তৃণমূল ও বিজেপির পক্ষে-বিপক্ষে এমন চর্চা। রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও এনিয়ে শুরু হয়েছে জোরতরজা। শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের কো-অর্ডিনেটর কুন্তল রায় বলেন, ‘অগ্নিকন্যা’ মমতার লড়াকু ইমেজ ও জনমুখী প্রকল্প নিয়েই এখানে লড়ছেন আমাদের অভিভাবক তথা মেয়র গৌতম দেব। এতে আমরা জয়ী হবই।
পালটা পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, বাংলা ও বাঙালি হিন্দুদের রক্ষা করার শপথ নিয়ে ভোটে লড়ছি। এই লড়াইয়ে এবারও আমাদের প্রার্থী শংকর ঘোষ জয়ী হবেন।