Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ছাই রাসায়নিক ও গেঞ্জি কারখানা, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি

মঙ্গলবার ভোরে মোহনপুর থানার ঈশ্বরীপুর গ্রামের বলাগড় শিল্পতালুকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। একটি রাসায়নিক এবং গেঞ্জি কারখানা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।

বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ছাই রাসায়নিক  ও গেঞ্জি কারখানা, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মঙ্গলবার ভোরে মোহনপুর থানার ঈশ্বরীপুর গ্রামের বলাগড় শিল্পতালুকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। একটি রাসায়নিক এবং গেঞ্জি কারখানা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। দমকলের ২০টি ইঞ্জিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজ করছে। দুপুরেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তা পুরো নেভেনি। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, রাসায়নিক কারখানার পাশেই একাধিক অন্য জিনিসের কারখানা ছিল। আগুন গেঞ্জি কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে ব্যাটারি কারখানার এবং গ্যাস গোডাউনসহ অন্যান্য কারখানায় আগুন ছড়ানোর আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানার চেষ্টা হচ্ছে। কারখানাগুলিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব ব্যবস্থা কেমন আছে এবং সতর্কীকরণ বিধি কতটা মানা হয়, দমকল তার খোঁজ নিচ্ছে। 

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ রাসায়নিক কারখানায় প্রথম আগুন লাগে। সেটি দাহ্যবস্তুতে ভরা। দীপাবলির জন্য সেটি বন্ধই ছিল। রাতে ছিলেন নিরাপত্তাকর্মী এবং একাধিক গাড়িচালক। আগুন দেখেই নিরাপত্তাকর্মীরা দমকলে খবর দেন এবং কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। এই কারখানার দেয়াল ঘেঁষেই রয়েছে একটি গেঞ্জি এবং ব্যাটারি কারখানা। গেঞ্জি কারখানায় ধোঁয়া ঢুকতেই ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। সেখানকার কর্মীরা তাঁদের সামগ্রী দ্রুত বের করতে থাকেন। খবর পেয়ে মোহনপুর ও রহড়া থানার পুলিশ এবং বারাকপুর, পানিহাটিসহ আশপাশের বিভিন্ন দমকল কেন্দ্রের কর্মীরা পৌঁছান। ঘোলার মুড়াগাছা থেকেও আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। 
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক অনুমান শর্টশার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। গেঞ্জি কারখানার কর্মী সুশান্ত মণ্ডল বলেন, ভোর ৫টা নাগাদ ফায়ার অ্যালার্ম বাজতেই ঘুম ভেঙে যায়। ততক্ষণে আমাদের কারখানাও ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। বাইরে বেরিয়েই বুঝতে পারি, পাশের কেমিক্যাল কারখানায় আগুন লেগেছে। পুলিশ ও দমকলের সহযোগিতায় কিছু সামগ্রী কারখানা থেকে বের করা গিয়েছে। তবে ওই কারখানা থেকে আগুন এসে আমাদের কারখানাকেও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে দিয়েছে।
অকুস্থলে এসে দমকলের ডিজি অভিজিৎ পান্ডে বলেন, পাশের খাল ও পুকুরে পাম্প বসিয়েও আগুন নেভানোর কাজ চলেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে দুপুরের মধ্যেই। আগুন কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি থেকে গেঞ্জি কারখানাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পার্শ্ববর্তী কারখানাগুলিতে আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকানো গিয়েছে। কারখানাগুলির মধ্যে কোনও গ্যাপ প্রায় নেই! আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে এটা মস্ত সমস্যা। 
স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীর রাজবংশি বলেন, ওই শিল্পতালুকের অদূরেই লোকালয়। তাই বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পাশের গ্যাস গোডাউনকে আগুন ছুঁয়ে দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। ভবিষ্যতের চিন্তা করে কারখানা মালিকদের সঙ্গে আগামী দিনে বৈঠক করা হবে। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ