নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট, বোলপুর: বাংলা নববর্ষে বীরভূমের লাল মাটিতে ঝড় তুললেন অভিনেতা-সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব। তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে রোড শোয় জনজোয়ার দেখা গেল। রামপুরহাট থেকে সিউড়ি হয়ে ইলামবাজার, সর্বত্রই প্রিয় নায়ককে দেখতে ভিড় উপচে পড়ে। এর আগে খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল কর্মীদের মনে। এদিন তিনটি মেগা শো করে সেই আক্ষেপ মেটালেন দেব। এদিনের প্রচারে দেবের মুখে ঘুরেফিরে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পের খতিয়ান। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। এই প্রকল্পই এবারের নির্বাচনে তুরুপের তাস হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ রামপুরহাটের কিষান মান্ডির হেলিপ্যাডে দেবের কপ্টার নামে। সেখান থেকে হুডখোলা গাড়িতে রোড শো শুরু হতেই জনসমুদ্রে ভেসে যান তিনি। প্রিয় নায়ককে এক ঝলক দেখতে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তার দু’ধারে জমায়েত করেন। পাঁচমাথা মোড়ে আসতেই অনুরাগীদের উন্মাদনা দেখে আপ্লুত দেব নিজের মোবাইলে সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন। প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভোট চাইতে দেখা যায় তাঁকে। যদিও বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার টিপ্পনি, ২৫বছরের বিধায়ক নিজের উপর ভরসা হারিয়ে দেবের উপর নির্ভর করছেন, এটা দেখে ভাল লাগল।
বিকেলে সিউড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের প্রচারে আসেন দেব। পানুরিয়া স্কুল মাঠে দেব যখন পৌঁছান তখন সেখানে কার্যত তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন অনুরাগীরা। সরাসরি মানুষের হৃদয়ে টান দিয়ে বললেন, ‘আমি ভোট চাইতে আসিনি। এসেছি উজ্জ্বলদার জন্য আপনাদের আশীর্বাদ, ভালবাসা আর দোয়া চাইতে। ভোট আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু ভোট দেওয়ার আগে একবার ভাববেন— কেন দেবেন?’ এরপরই তিনি টেনে আনেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রসঙ্গ। দেবের কথায়, ‘গত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০০টাকা দিয়ে যে প্রকল্প শুরু করেছিলেন তা আজ বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী থেকে স্বাস্থ্যসাথী, এই উন্নয়ন অন্য কোনো রাজ্যে নেই।’
এদিন বিকালে ইলামবাজারের রোড-শোতে দেবের সঙ্গে ছিলেন বোলপুর বিধানসভার প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ, বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। সেখানেও জনতার চাপে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই শোভাযাত্রা শেষ করতে হয়। দেবের মুখে শোনা যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গ। বিজেপিকে নিশানা করে দেব বলেন, ‘কেউ বলছে মন্দির করব, কেউ বলছে মসজিদ। কিন্তু আমাদের কাছে মানুষের কাজ করাই আসল ধর্ম।’ এসআইআর প্রসঙ্গে তোপ দেগে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি হওয়ারই ছিল, তবে দু’বছর আগে কেন হল না? ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে কেন এত মানুষের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হল?’
শেষে দেবের আত্মবিশ্বাসী বার্তা, ‘লিখে নিন, ২০২১ সালের থেকে অন্তত ৫-১০টা সিট বেশি পাবে তৃণমূল।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, বীরভূমের এই দফার নির্বাচনে দেবের এই ঝোড়ো সফর শুধু তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করল না, বরং আমজনতার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেগকেও পুনরায় উসকে দিল। বীরভূম জেলায় এই প্রকল্পের সুবিধা পান প্রায় ৯ লক্ষ মহিলা। এই প্রকল্প প্রাপকের একটা বড় অংশের ভোট তৃণমূলের পক্ষে আসবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।