শ্রীনগর: জিপলাইন রাইডে পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখছিলেন আমেদাবাদের ঋষি ভাট। স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সবুজ প্রান্তর। সারি সারি পাইন গাছ। তাঁর হাতে ধরা সেলফি স্টিক। ফোনে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন সেই অপূর্ব মুহূর্ত। ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, সেই মনোরম পরিবেশ মুহূর্তে ঢেকে যেতে পারে আতঙ্কে। উপত্যকার সবুজ গালিচা ভেসে যাবে রক্তে। গত ২২ এপ্রিল ঋষি যখন জিপলাইন রাইড উপভোগে ব্যস্ত, তখন নীচে চলছে সেই হত্যালীলা। জঙ্গিদের হামলায় ২৬ নিরীহ মানুষের মৃত্যু। ঋষির কানে সেই মানুষগুলির আর্তনাদ পৌঁছয়নি। তাঁর এই ভিডিও হয়ে উঠেছে পহেলগাঁও হামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সেটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
রাইড শুরু করার আগে জিপলাইন অপারেটর মুজামিল বলেন, ‘আল্লাহু আকবর’। ঋষির ভিডিওতে রয়েছে সেই অংশও। কেন আচমকা ওই সময়ই ধর্মীয় বাক্য বলেছিলেন তিনি? তাঁর কাছে কি হামলার আগাম বার্তা ছিল? তা নিয়ে সংশয় শুরু হয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ তলব করেছে ওই জিপলাইন অপারেটরকে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও তাঁর ভাই মুক্তার দাবি করেছেন, মুজামিল নির্দোষ। হামলা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না তিনি। বিপদ বুঝেই পালিয়ে যান। একই দাবি মুজামিলের বাবারও। তিনি বলেন, ‘আমি ভিডিওটা দেখিনি। তবে আমরা মুসলমান। প্রচণ্ড ঝড়ের সময়ও আমরা ‘আল্লাহু আকবর’ বলি।’ তবে সম্পূর্ণ অন্য দাবি করেছেন পর্যটক ঋষি। তাঁর কথায়, ‘আমার আগে ন’জন পর্যটক জিপলাইনে চেপেছিলেন। তাঁদের কারও ক্ষেত্রে ওকে ওই কথা বলতে শুনিনি। আমার বেলাতেই তিনবার বলল। তারপরই গুলি চলা শুরু হল। এর পিছনে নিশ্চয়ই কোনও কারণ রয়েছে।’