নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘টিভির পর্দায় দেখেছিলাম, এল ক্লাসিকোর শেষ মিনিটে জর্ডি আলাবার মাইনাস থেকে ভগবানের ঠিকানা লেখা শট রিয়াল মাদ্রিদের জাল কাঁপিয়ে দেয়। শরীরটা ছুড়ে দিয়েও সেই বলের নাগাল পাননি রিয়াল গোলকিপার। বার্সেলোনার হয়ে সেই গোলটা প্রমাণ করে, লোকটা জাদুকর। আর কিচ্ছু না। সেই মানুষটা আমার শহরে এসেছিল। ১২ হাজার টাকার টিকিট কেটে মেসির বাঁপায়ের একটা ঝলক দেখতে গিয়েছিলাম। গ্যালারি থেকে তো আমরা আর মন্ত্রী-আয়োজকদের সেলফি দেখতে যাইনি! ওসব পদত্যাগ-শোকজে সেই আক্ষেপ তো আর মিটবে না! এখন শুধু টাকাটা ফেরাক। আর কিছু চাই না।’ বক্তা উত্তর কলকাতা এলএম টেন ফ্যান ক্লাবের সদস্য সমীর গুপ্ত। তিনি একা নন, হাজার হাজার ভক্ত এই এক সুরে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এখনও। যুবভারতী-বিশৃঙ্খলার তিনদিন পরও।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে নবান্নে। তার ভিত্তিতে কড়া অ্যাকশনে নেমেছে রাজ্য সরকার। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ, পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের শোকজ-সাসপেন্ড এবং টিকিটের দাম ফেরানোর সুপারিশ। তা সত্ত্বেও অবশ্য প্রলেপ পড়ছে না আম ফুটবলপ্রেমীর আপশোসের ক্ষতে। বালিগঞ্জ মেসি ফ্যান ক্লাবের এক সদস্য সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘এত তৎপরতা যদি ঘটনার দিন পুলিশ, আর আয়োজকরা দেখাতেন, তাহলে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতিই তৈরি হত না। বিশ্বের সেরা ফুটবলার শহরে এসেছেন। তাও কোনও টুর্নামেন্টের খেলায় নয়। মানুষ তাঁকে ভালোবেসে দেখতে গিয়েছে। তাঁর পায়ে একটা বল দেওয়ারও কেউ ছিল না! লোকটা যুবভারতীর গোলে একটা শট মারলেই তো গ্যালারি খুশি হয়ে যেত।’ উদ্যোক্তারা কেন সেটুকু ব্যবস্থা করতেও ব্যর্থ হলেন? এই প্রশ্নটাই তুলছেন ক্ষিপ্ত দর্শকরা। তাঁরা দ্রুত টাকা ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, ঘটনার দিনই যুবভারতী থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার বলেছিলেন, প্রত্যেক দর্শকের টিকিট মূল্য ফেরত দেওয়া উচিত। তদন্ত কমিটির তরফে একই কথা সুপারিশ করা হয়েছে।
বেহালার বাসিন্দা শুভদীপ সরকারের আক্ষেপ, ‘মেসি ম্যাজিকের ঝলক দেখার ইচ্ছা নিয়েই শনিবার স্ত্রীকে নিয়ে যুবভারতী গিয়েছিলাম। কিন্তু, বৃথা গেল দু’জনের ৮ হাজার টাকা। সেই টাকা ফেরত দিক আয়োজক সংস্থা। কিন্তু উদ্যোক্তা নিজেই তো জেলে। তাহলে টাকা দেবে কে? জানি না।’