নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: যুব তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে ২১জুলাইয়ের প্রস্তুতিতে সভা আয়োজিত হল। রবিবার বিকেলে বৃষ্টি সত্ত্বেও বহরমপুর শহরের মোহন মোড়ে ওই সভায় হাজার হাজার মানুষ জমায়েত করেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, শাসকদলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার, যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি ভীষ্মদেব কর্মকার, বিধায়ক হুমায়ুন কবীর, রবিউল আলম চৌধুরী, বর্ষীয়ান নেতা অশোক দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বহরমপুর শহর ও আশপাশের কয়েকটি ব্লক থেকে হাজার হাজার যুবক-যুবতী এই সভায় অংশ নেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশাল মিছিল এসে মোহন মোড়ের একটি রাস্তা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে দেয়। ব্যান্ডপার্টি থেকে শুরু করে ঢাক-ঢোল নিয়ে কর্মীরা ২১জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন।
অপূর্ববাবু বলেন, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেবেন, সেটাই শুনতে আমরা কলকাতায় যাব। আগামী দিনে এই মোহন মোড়ে দাঁড়িয়ে আমি বাংলায় কথা বলতে পারব কি না জানি না। অন্য রাজ্যে বাংলায় কথা বললে অপরাধ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই বাংলার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পেয়েছিলেন। আজ যদি বাঙালি রবীন্দ্রনাথ অন্য রাজ্যে যেতেন, তাহলে হয়তো দেখা যেত, তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটাই আজকের বিজেপি পার্টি! বাংলা ভাষা আমাদের অধিকার। সেই অধিকার বুঝে নিতে ২১তারিখ আমাদের কলকাতায় যেতে হবে। আগামী দিনে বাঙালি হিসেবে আমাদের নাম ভোটার লিস্টে নাম থাকবে কিনা, সেটা নিশ্চিত করতে ২১ তারিখ সমাবেশে যেতে হবে।
ভীষ্মদেব বলেন, যুব তৃণমূলের নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠন আরও মজবুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন থেকেই ২১জুলাইয়ের প্রস্তুতিতে মন দিয়েছি। সমস্ত ব্লক ও শহরে মিটিং-মিছিল হচ্ছে। বহরমপুর শহরের বুকে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সভা করলাম। সমস্ত সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিধায়করা এদিনের সভায় হাজির হন। হাজার হাজার কর্মী এসেছিলেন। হুমায়ুন কবীর বলেন, বড় দল, বড় পরিবার। আমাদের মধ্যে মতান্তর, মনোমালিন্য থাকতে পারে। সেসব সরিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিজেপিকে ৫০-এর বেশি আসন পেতে দেওয়া যাবে না। মুর্শিদাবাদ জেলায় ২২-০ করতে হবে। রবিউল সাহেব বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলায় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিভাজনের তাস খেলে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। কংগ্রেস ও সিপিএম ওদের দেখাদেখি মেরুকরণের রাজনীতি শুরু করেছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আসার জন্য আমাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। • নিজস্ব চিত্র