সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: পরিবেশবান্ধব একাধিক থিমে সেজেছে তারকেশ্বর রানাবাঁধের বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপ। তবে উদ্যোক্তারা থিম নির্ভর পুজো করলেও তাদের রুচি ও সচেতনতার অভাব চোখে পড়ল সোমবার।
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: পরিবেশবান্ধব একাধিক থিমে সেজেছে তারকেশ্বর রানাবাঁধের বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপ। তবে উদ্যোক্তারা থিম নির্ভর পুজো করলেও তাদের রুচি ও সচেতনতার অভাব চোখে পড়ল সোমবার।
রানাবাঁধের বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজোর মণ্ডপ তৈরি শুরু হয়েছিল পাটকাঠি দিয়ে। সেই সময় এই এলাকার প্রতিটি মণ্ডপই তৈরি হতো পাটকাঠি দিয়ে। গ্রামাঞ্চলে পাটকাঠির অভাব ছিল না। দুর্গাপুজোর থেকেও বড় করে আয়োজন করা হতো লক্ষ্মীপুজোর। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পাটকাঠি দিয়ে মণ্ডপ করে শুধুমাত্র একটি পুজো কমিটি। অন্যান্য মণ্ডপ চলে গিয়েছে থিম-ভাবনায়। পরিবেশবান্ধব সচেতনতার বার্তা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তবে বেশিরভাগ ক্লাবের উদ্যোক্তাদের প্রশাসনের তরফ থেকে বারে বারে নিষেধ করা হলেও যথেচ্ছভাবে বেজে চলেছে ডিজে সাউন্ড বক্স। সোমবার মণ্ডপে প্রতিমা আনার সময় শোভাযাত্রাতেও তারস্বরে বেজেছে ডিজে বক্স।
বেশিরভাগ থিমে ফুটে উঠেছে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা। তবে বাস্তবে ধরা পড়েছে অন্য ছবি। পুজো কমিটিগুলির একাংশ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যবহার করছে ডিজে বক্স। দফায় দফায় বৈঠক, কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির নিষেধাজ্ঞা, কোনও কিছুই মানছেন না উদ্যোক্তারা। নিষিদ্ধ সাউন্ড বক্স বন্ধ করার উদ্যোগও নেয়নি পুলিশ-প্রশাসন। কেন্দ্রীয় লক্ষ্মীপুজো কমিটির সম্পাদক সমরেশ মাইতি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ডিজে সাউন্ড বক্স না বাজানোর নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগানো সহ একাধিক নির্দেশ দিয়েছিল তারা। প্রত্যেক পুজো কমিটিকে সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার ডিজে সাউন্ড বক্স বন্ধ করে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে প্রতিমা আনতে গিয়েছিল কয়েকটি পুজো কমিটি। কিন্তু কয়েকটি পুজো কমিটি ওই নির্দেশ অমান্য করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুজো কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, গ্রামের ছেলেদের ভক্তি, শ্রদ্ধা থেকে এই এলাকায় শুরু হয়েছিল বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো। নতুন প্রজন্মের ছেলেদের ঝোঁক ডিজে সাউন্ড বক্সের দিকে। এভাবে চললে এই এলাকার লক্ষ্মীপুজোর জনপ্রিয়তা এক সময়ে হারিয়ে যাবে। পরিবেশবান্ধব মণ্ডপ দিয়ে যে এলাকার পুজো মানুষের কাছে পৌঁছেছিল, আজ সেই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
শব্দ দানব। নিজস্ব চিত্র