রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায় , বাঁকুড়া:
রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায় , বাঁকুড়া:
সোনার প্রতি বাঙালির আকর্ষণ চিরকালের। বাড়িতে এক রতি সোনা থাকাকে অনেকে ‘অন্ধের যষ্টি’ মনে করেন। অসময়ে সেই সোনা অনেক কাজে লাগে। ফলে নিশ্চিন্ত বিনিয়োগ হোক বা সখের জন্য গয়না তৈরি, হলুদ ধাতুর উপর ভরসা যুগ যুগ ধরে একই রয়ে গিয়েছে। সোনা কেনার উৎসবে মাততে বাঙালি এখন হিন্দি বলয়ের ধনতেরাসকেও ‘তেরো পার্বণের’ সঙ্গে যুক্ত করে নিয়েছে। এবারের ধনতেরাস ও দীপাবলিতে সোনা কেনাবেচার ভালো বাজার হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। যদিও সোনার ঊর্ধ্বমুখী দাম সকলকেই কিছুটা চিন্তায় রেখেছে। বর্তমানে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে দাম বাড়লেও বাঙালির সোনা কেনায় ভাটা পড়বে না বলেই ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
ক্রেতা টানতে বাঁকুড়ার স্বর্ণ বিপণীগুলি নিজেদের মতো করে নানা অফার নিয়ে এসেছে। ব্যবসায়ীরা সোনার দামের পাশাপাশি গয়নার মজুরিতে যত বেশি সম্ভব ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট টাকার কেনাকাটার উপরে নানান উপহারের ডালি নিয়েও অনেকে হাজির হয়েছেন। বেশিরভাগ দোকানে মাসিক কিস্তি মিটিয়ে বছরের শেষে নির্দিষ্ট ছাড়ে সোনা কেনার সুযোগও রয়েছে। বাঁকুড়া শহরে এমনিতেই সোনার বাজার চাঙ্গা থাকে। তবে সম্প্রতি জেলায় নকল সোনার কারবার ধরা পড়ায় ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা কিছুটা চিন্তিত। ঠকে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই সোনাদানা যাচাই করে নিচ্ছেন। আগের তুলনায় ক্রেতারা অনেক সচেতন হয়েছেন। ক্রেতারা বিশ্বস্ত দোকানেই কেনাকাটা সারছেন। ধনতেরাসের সময় বিয়ের মরশুম থাকে না। পরবর্তী বিয়ের মরশুমের জন্য অনেকে ওইদিন সোনা কিনে রাখেন। দিনটি উপলক্ষ্যে সোনা কেনার আগ্রহ ক্রেতাদের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাঁকুড়া শহরের মাচানতলায় সদর ট্রাফিক ফাঁড়ি সংলগ্ন একটি গয়নার দোকানের মালিক সত্যজিৎ দে বলেন, আমরা ক্রেতাদের গয়নার মজুরির উপর ছাড় দিয়ে থাকি। এছাড়াও প্রতিটি কেনাকাটায় নিশ্চিত উপহার থাকছে। দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সোনার বিক্রিও বাড়ছে। আরও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকেই আগাম সোনা কিনে রাখছেন। সামনেই বিয়ের মরশুম আসছে। তার জন্যও অনেকে এখন থেকে সোনার গয়না কিনে রাখছেন।
মাচানতলারই একটি স্বর্ণ বিপণীর কর্ণধার ব্যোমকেশ দে বলেন, আমাদের দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনও উপহার দেওয়া হয় না। গয়নার মজুরিতেও ছাড় দেওয়া হয় না। ধনতেরাস ও দীপাবলি উপলক্ষ্যে আমরা যে কোনও গয়নার ক্ষেত্রে মাত্র সাড়ে ৬ শতাংশ মজুরি বা মেকিং চার্জ নিচ্ছি। বছরের অন্যান্য সময়ে তা ১২ শতাংশ নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, বছর তিনেক আগে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৫৫ হাজার টাকার আশপাশে ছিল। এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তাতে বিক্রি কমেনি। উল্টে আগের তুলনায় তা বৃদ্ধি পেয়েছে।